রাশেদ খান
আমার অভিযোগেই বাতিল হয়েছে রাব্বানীর জিএস পদ

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও গোলাম রাব্বানী। ছবি : সংগীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল হয়েছে মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের অভিযোগে। এমন দাবি করেছেন রাব্বানীর তৎকালীন এই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। শূন্য হওয়া ওই জিএস পদে নিজেকে যোগ্য দাবিদার বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
গোলাম রাব্বানীর জিএস পদ বাতিল বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে আগামীর সময়কে দেওয়া এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন এই মন্তব্য করেন।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছেন, ‘ডাকসু নির্বাচনে ভিপি-জিএসসহ ১১টি পদে আমাদের প্যানেল জিতেছিল। কিন্তু পরে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়। এই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল। আমাদের কাছে সব তথ্য-উপাত্ত ছিল, আমিও জিএস পদে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী ছিলাম।’
“সেই জায়গা থেকেই ‘অবৈধভাবে’ জিএস পদে জয়ী প্রার্থীর পদ বাতিলের বিষয়ে আমি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ করেছিলাম। আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি গোলাম রাব্বানীর জালিয়াতির ঘটনার সত্যতা ও প্রমাণ পেয়েছে”- দাবি রাশেদের।
‘পরে শুনেছি তার ছাত্রত্বও বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু তার ছাত্রত্বই নেই, সেহেতু তার তো ডাকসুরও পদে থাকার কথা না। প্রশাসন এখন সেই পদক্ষেপই নিয়েছে। আমার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
গণঅধিকার পরিষদের সাবেক এই নেতা বললেন, ‘রাব্বানীর জিএস পদ বাতিল হওয়াতে ডাকসুতে এখন পদটি শূন্য রয়েছে। আমি যেহেতু তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলাম, তাই এখন আমি সেই পদটি ফিরে পাওয়ার যোগ্য দাবিদার। আমি ২০২৯ সালের অভিযোগেও এই কথাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলেও জানান বিএনপি নেতা রাশেদ।
২০১৯ সালের ১১ মার্চের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে জয়ী হন নুরুল হক নুর। তিনি ১১ হাজার ৬২ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, যিনি পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট পাওয়ায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয় গোলাম রাব্বানীকে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশেদ খাঁন পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।
গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ২০১৯ সালের ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে নির্বাচনের সাত বছর পর ডাকসুর জিএস হতে পারেন রাশেদ খাঁন।





