তাসনিম সিরাজের দাবি, চোখ দেখতে না পেয়ে ‘অস্বস্তির’ কথা বলায় ক্লাস ছাড়েন ছাত্রী

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ। ছবি: সংগৃহীত
নিকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব।
আজ শনিবার দুপুরে এক ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
তার দাবি, শিক্ষার্থীর চোখ দেখতে না পেয়ে অস্বস্তি বোধ করার কথা বলার পর ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে চলে যান। তবে তাকে নিকাব খুলতে বা পোশাক পরিবর্তন করতে বলেননি তিনি।
ফেসবুক লাইভে তাসনিম সিরাজ মাহবুব বলেন, গত ৭ অক্টোবর ক্লাসে পুরো মুখমণ্ডল ঢাকা থাকায় ওই ছাত্রীকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারছিলেন না তিনি। চোখে চোখ রেখে যোগাযোগ করতে না পারায় শিক্ষার্থী তার বক্তব্য কীভাবে গ্রহণ করছেন, তা বুঝতেও অসুবিধা হচ্ছিল তার। এ কারণে পাঠদানের সময় তিনি অস্বস্তি বোধ করছিলেন।
তাসনিম সিরাজের দাবি, সূরা আন-নূরের ৩১ নম্বর আয়াতের আলোকে শালীন পোশাক এবং মুখমণ্ডল খোলা রাখার বিষয়ে নিজের ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরেছিলেন তিনি। আলোচনার সময় পোশাক পরিবর্তনের কথা বলেননি এবং ছাত্রীকে ক্লাস ছাড়ার নির্দেশও দেননি।
তিনি দাবি করেন, ওই ছাত্রী কষ্ট পেয়ে ক্লাস ছেড়ে গেছেন জানতে পেরে তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তাসনিম সিরাজ মাহবুব। সহপাঠীদের মাধ্যমে তিনবার খবর পাঠানো এবং করিডরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি। পরে পরিবারের এক সদস্যের অস্ত্রোপচারের কারণে তাকে হাসপাতালে যেতে হয়।
বিভাগীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাসনিম সিরাজ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তার বক্তব্য শোনার আগেই সব কোর্স অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।
এসময় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে বেনামি ফোন, ইমেইল ও হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তাসনিম সিরাজ।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীর নিকাব পরা নিয়ে শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলাসহ ওই ছাত্রী বোমা হামলা করতে পারেন—এমন মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ক্লাস বর্জন করেন ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা। পরে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় তাকে বিভাগের সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেয় ইংরেজি বিভাগ।



