শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণে ডাকসুর সেমিনার, গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা

শহীদ সাংবাদিকদের স্মরণে ডাকসুর সেমিনার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমের সাহসী ভূমিকা, সত্য প্রকাশের সংগ্রাম এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হওয়া সাংবাদিকদের আত্মত্যাগ স্মরণে সেমিনারের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ডাকসু সম্মেলন কক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ও আমাদের শহিদ সাংবাদিকবৃন্দ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান। সঞ্চালনা করেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়ের মা শামসী আরা জামান, দৈনিক সমকালের সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, বাংলাদেশ ফ্রি প্রেস ইনিশিয়েটিভের যুগ্ম আহ্বায়ক সিলমী সাদিয়া, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাব-এডিটর তাওসিফুল ইসলাম, দৈনিক আগামীর সময়ের নিজস্ব প্রতিবেদক আমজাদ হোসেন হৃদয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি, দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমআরএ) সভাপতি ফখরুল ইসলাম এবং প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নোমান।
সেমিনারে শহীদ সাংবাদিকের মা শামসী আরা জামান তার সন্তানের হত্যার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনায় সাংবাদিক রাজীব আহমেদ বলেছেন, জুলাইয়ের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের কিছু ভুল মূল্যায়ন করে পুনর্মিলনের (রিকনসিলিয়েশন) প্রয়োজন রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সত্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানা চাপ, হুমকি ও ঝুঁকির মুখে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকেই আহত হয়েছেন, কেউ কেউ জীবন উৎসর্গ করেছেন—যা দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
সেমিনারে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, সংকটকালে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার গুরুত্ব এবং শহীদ সাংবাদিকদের স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।






