ডাকসুর জুবায়েরের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল?

ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ ডাকসু নেতা এ বি জুবায়েরকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে জুবায়েরকে একদল তৃতীয়লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা যায়।
ঘটনার সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরীবাগ এলাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পাশের ফুটওভার ব্রিজে ঘটনাটি এটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিজেকে অনলাইন পোর্টাল ‘ভোরের বাংলা নিউজ’র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি দাবি করা সিফাতুল্লাহ তাসনিম বলছেন, ‘ট্রান্সজেন্ডারদের কিছু মানুষের ‘অসামাজিক কর্মকাণ্ড’ নিয়ে অনুসন্ধান করতে সেখানে যাই। যাওয়ার আগে বিষয়টি শাহবাগ থানাকে অবহিত করা হয়েছিল।’
তাসনিমের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন তৃতীয়লিঙ্গের ব্যক্তি তাদের ঘিরে ফেলেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এ সময় তারা ভিডিও ধারণ করে অশালীন মন্তব্য করেন এবং টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাসনিম।
একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের বলেছেন, তাসনিমের সঙ্গে তিনি সেখানে যান। আগে থেকেই থানাকে জানানো হয়েছিল। সেখানে গিয়ে তথ্য জানতে চাইলে তৃতীয়লিঙ্গের কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পুলিশ এসে বিষয়টি মীমাংসা করে বলে জানান তিনি।
জুবায়ের আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার আংশিক ভিডিও ছড়িয়ে তার ‘চরিত্রহননের চেষ্টা’ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।
এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যাওয়ার বিষয়টি শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জুবায়েরের পক্ষ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জুবায়ের ও তাসনিমকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়।’
ঘটনা যাদের ঘিরে সেসব ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যায়নি বিধায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তাসনিম নিজেকে ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাবির ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, তিনি নিয়মিত ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করলে পরিচিত হওয়ার কথা ছিল। যদিও তাসনিম নিজের করা কিছু প্রতিবেদন দেখিয়ে সাংবাদিকতার দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মতামত দেখা যাচ্ছে। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ।






