স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল
রাবিতে ৩ জায়গায় বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ শেষ হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ। ১০৪টি ম্যাচের অপেক্ষোর পর এক রাতেই নির্ধারিত হবে ফুটবলের নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। কারও জন্য এটি হবে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার মুহূর্ত, আবার কারও জন্য বুকভাঙা হতাশার। আজ রবিববার রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
বিশেষ করে ফাইনালে আর্জেন্টিনার জায়গা করে নেওয়ায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা পৌঁছেছে ভিন্ন মাত্রায়।
ফুটবলপ্রেমী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে খেলা উপভোগের সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক স্থানে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) এবং শাখা ছাত্রদল।
রাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামের পূর্ব পাশে স্থাপন করা হয়েছে তিনটি জায়ান্ট স্ক্রিন। নারী শিক্ষার্থীরা স্টেডিয়ামের দক্ষিণ ফটক (বিজয়-২৪ হলসংলগ্ন) দিয়ে এবং পুরুষ শিক্ষার্থীরা উত্তর ফটক (মাদার বখশ হলসংলগ্ন) ও প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। মাঠ ও গ্যালারি— উভয় স্থানেই বসে খেলা উপভোগের সুযোগ থাকবে।
শাখা ছাত্রদলও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের মুক্তমঞ্চের সামনে এলইডি স্ক্রিনে ফাইনাল ম্যাচ দেখার আয়োজন করেছে। সেখানে বসেই শিক্ষার্থীরা খেলা উপভোগ করতে পারবেন। ছাত্রদলের এ আয়োজন সম্পর্কে শাখা সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বললেন, ‘বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমরা শিক্ষার্থীদের খেলা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় আজ ফাইনাল ম্যাচটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শহীদ মিনারে বসে উপভোগ করব। ফুটবল আনন্দের খেলা, সেই আনন্দ আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই।’
ছাত্রদল ও রাকসুর পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচ দেখানোর আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরসংলগ্ন প্যারিস রোডে ৩০ ফুট প্রস্থ ও ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বড় স্ক্রিন স্থাপন করেছে প্রশাসন। ওই স্ক্রিনের মাধ্যমে প্যারিস রোডে বসেই শিক্ষার্থীরা ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বললেন, ‘প্যারিস রোডে খেলা দেখানোর জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। শিক্ষার্থীদের খেলা উপভোগের সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।’
ক্যাম্পাসের নিরাপত্রাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টর বললেন, ‘ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে তিনটি পৃথক স্থানে খেলা দেখানো হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকবেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ধ্যার পর থেকেই পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, বিএনসিসি, স্কাউট এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা আশা করছি, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ফাইনাল ম্যাচটি উদযাপন করা সম্ভব হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।’





