বিচারকের স্বাক্ষর-সিল জালিয়াতি, আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

সিল জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরির অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা। ছবি: সংগৃহীত
বিচারকের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরির অভিযোগে এক আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। রবিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আবুল হাসান কানন।
মামলার আসামিরা হলেন বরগুনা জজ আদালতের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম তরু ফরাজী, মো. নয়ন ও মোসা. রিমা।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়ার বিয়ের হলফনামা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। হলফনামার স্মারক নম্বর রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে বাদী লক্ষ্য করেন, ওই স্মারক নম্বরে মো. জাফরুল ইসলাম নামে অন্য একটি হলফনামা নিবন্ধিত রয়েছে। এতে তার সন্দেহ হয় যে, ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ের হলফনামা তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই হলফনামায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে প্রতিস্বাক্ষরের ঘরে তা সংযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পরিপত্র অনুযায়ী আদালত বিবাহসংক্রান্ত হলফনামা সম্পাদনের অনুমতি দেয় না। মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মুসলিম বিয়ে কাজির মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। তা সত্ত্বেও বিষয়টি জানা থাকার পরও প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ছাড়াই আসামি তরিকুল ইসলাম ও মো. নয়ন কথিত ওই নোটারি হলফনামা ব্যবহার করে বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের চেষ্টা করেন। পরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, আসামিরা একটি জালিয়াত চক্রের সদস্য। বিচারকের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে নোটারি হলফনামা তৈরি করে পরে বিভিন্ন মামলা ও দাপ্তরিক কাজে তা ব্যবহার করে আসছেন তারা।




