ম্যাচ শেষে মারামারি
পারেদেসের কোনো ক্ষমা নেই

বিশ্বকাপ ফাইনালে ১২০ মিনিটের একপেশে লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আর্জেন্টিনা। ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন যখন মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের উল্লাসে মত্ত, ঠিক তখনই মাঠে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর পরিণতিতে লাল কার্ড দেখতে হয় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে।
স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ খেলার শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্পেনের বদলি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা মাঠে ছুটে আসেন উল্লাস করতে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ। দুই দলের খেলোয়াড়েরা একে অপরকে ঘিরে ফেললে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্বয়ং আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে লিয়েন্দ্রো পারেদেস চড়াও হন স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস প্রথমে এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা দেন এবং পরবর্তীতে তরুণ স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভিকে গলা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেন!
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেফারি ভিনচিচ দেরি করেননি। পুরো ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে বেশ কয়েকবার পার পেয়ে গেলেও এমন বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে এনজো ফার্নান্দেজও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়েছিলেন। ফলে ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের।
ম্যাচ শেষে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে আর্জেন্টাইন ফুটবলারের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। আইটিভির স্টুডিওতে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক গ্যারি নেভিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সে (পারদেস) যা করেছে, সেটা খুবই অসম্মানজনক। আমি আর্জেন্টিনার লড়াই করার মানসিকতা পছন্দ করি, কিন্তু শেষ কয়েকটা ম্যাচে পারেদেসের আচরণ পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’
বিবিসির অ্যালান শিয়েরারও কড়া ভাষায় বলেন, ‘পারেদেস যেভাবে হাতাহাতিতে জড়িয়েছে এবং প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের শরীরে আঘাত করেছে, তার কোনো ক্ষমা নেই। আমরা জানি ম্যাচ হারলে কতটা কষ্ট হয়, কিন্তু হেরে যাওয়ার পরও একটা শালীনতা থাকা উচিত।’
দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্পেনের ঐতিহাসিক এই বিশ্বজয়ের রাতটি মাঠের বাইরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতির কারণে অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। বিশ্বজয়ের আনন্দ ছাপিয়ে এখন ফুটবলাঙ্গনে আলোচনা চলছে ফাইনাল শেষের এই অনভিপ্রেত দৃশ্য নিয়ে।






