যুগপতের দেড় শতাধিক নেতার সঙ্গে আজ প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
- ‘মূল্যায়নের’ দাবি জানাবেন মিত্ররা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠান হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বললেন, ‘যমুনার এই অনুষ্ঠানে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের দেড়শ’র অধিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে আমন্ত্রিত নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্ড।’
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা থাকবেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব। যুগপৎ আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী ছিল না বলে এই অনুষ্ঠানে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও জানান তিনি।
নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে চারটি জোটসহ ৪২টি রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিল। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে এই শরিক দলগুলো যুগপৎভাবে অভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন করে।
তবে তাদের মধ্যে শরিক তিনটি দল নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যে শামিল হওয়ায় তারা আমন্ত্রণ পাননি প্রধানমন্ত্রীর এই নৈশভোজে। দলগুলো হলো— অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং তাসমিয়া প্রধান ও রাশেদ প্রধানের জাগপা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। এরপর এই প্রথম যুগপৎ শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নৈশভোজে আমন্ত্রণ পাওয়া একাধিক শরিক দলের নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের ‘যথাযথ’ মূল্যায়নের দাবি জানাবেন তারা। রাজপথের মতো সরকারেও ভূমিকা রাখতে চান তারা। এক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং বিএনপির ‘রেইনবো নেশন’ ও ‘জাতীয় সরকার’ এর অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরবেন মিত্ররা।
একই সঙ্গে শরিকদের প্রতি সরকারের মনোভাব বোঝারও চেষ্টা করবেন এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় ঠিক করবেন তারা।
জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাত আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বিএনপি বারবার আশ্বস্ত করেছিল যে— শরিক জোটের নেতাদের নিয়ে নির্বাচন ও সরকার গঠন করব। মনোনয়ন দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল যে, সবাইকে নমিনেশন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বিধায় জাতীয় সরকারে নেওয়া হবে।’
‘এতদিন পরে হলেও তাদের বোধোদয় হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী শরিক জোটের নেতাদের দ্রুত যথাযথ মূল্যায়ন করবেন’—যোগ করলেন তিনি।




