জহির উদ্দিন স্বপন
জমির উদ্দিন সরকারকে কখনো পরনিন্দা করতে দেখিনি

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্মরণে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
প্রয়াত ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো পরনিন্দা, গিবত কিংবা ঈর্ষাপ্রসূত আলোচনায় মত্ত হতেন না বলে স্মৃতিচারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও জমির উদ্দিন সরকারের কথা ছিল সবসময় ইতিবাচক ও গঠনমূলক।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার স্মরণে আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ডিবেটিং ক্লাব।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে যতবার জমির উদ্দিন সরকারের সংস্পর্শে এসেছি, তার বাচনভঙ্গি, বিনয়, জ্ঞানের গভীরতা ও অসাধারণ স্মৃতিশক্তিতে মুগ্ধ হয়েছি। তার সঙ্গে রাজনীতি, সংসদ কিংবা দলের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু কখনো তাকে পরনিন্দা, গিবত বা ঈর্ষাপ্রসূত আলোচনায় দেখিনি। মতপার্থক্য থাকলেও তার কথা ছিল সবসময় ইতিবাচক ও গঠনমূলক।’
তিনি আরও বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন দেশের অন্যতম প্রধান আইনজীবী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। কিন্তু এসব সাফল্যের চেয়েও বড় বিষয় হলো, তিনি সারাজীবন একটি মূল্যবোধ ধারণ ও চর্চা করেছেন। তার আশপাশে যাঁরা গেছেন, তারা কমবেশি সেই মূল্যবোধের স্পর্শ পেয়েছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সুযোগ্য সন্তানদের আমরা তাদের মেধা, আন্তরিকতা ও কর্মের মধ্য দিয়ে দেখতে পাচ্ছি। তিনি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছাত্রজীবনেই বিতর্কচর্চায় যুক্ত ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় তার স্মৃতি ও বিতর্কের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে কলা অনুষদ উদ্যোগী হতে চায়।
জমির উদ্দিন সরকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা স্মৃতি তুলে ধরে দৈনিক আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রচারের আলোয় নিজেকে কখনো সামনে রাখেননি। তিনি বলেন, ‘তাকে আমি প্রথম দেখি মন্ত্রী থাকা অবস্থায়। আমরা তখন মফস্বল থেকে আসা। আমাদের কাছে মন্ত্রী মানেই অনেক বড় কিছু। কিন্তু তার বাসায় গিয়ে দেখি, লুঙ্গি পরে খুব স্বাভাবিকভাবে হাঁটাহাঁটি করছেন তিনি। তখন মনে হয়েছিল, মন্ত্রীরাও তাহলে আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ! বহু বছর পর তাকে আবার দেখি, তখন তিনি সাবেক মন্ত্রী। কোর্টে একা হেঁটে যাচ্ছেন, নিজের পেশা আইনচর্চায় ফিরে গেছেন। তখন আরও ভালোভাবে বুঝলাম, পদ তার জীবনযাপনকে বদলে দেয়নি।’




