জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

ছাত্রদল ও শিবির সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থী ছবিটি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট থেকে তোলা -মহুবার রহমান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ঢুকতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও জকসু-শিবিরের নেতাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠান শেষে জকসু ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ওপর হামলা চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
দুপুর বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনের পক্ষ থেকে একটি সেমিনারে আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দিন।
জানা যায়, বেলা এগারোটার দিকে সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এগারোটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরাসহ অন্যান্যরা হাতে কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে প্রবেশ করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হয়। প্ল্যাকার্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তান্তর ও বরাদ্দকৃত ২০ কোটি টাকা দিয়ে অস্থায়ী হল নির্মাণ ও মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা, টেকনিশিয়ান ও চিকিৎসক নিয়োগসংক্রান্ত দাবির কথা তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এসময় ইনকিলাব মঞ্চেরও কিছু সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিলনায়তনের প্রবেশমুখ থেকে জকসু ও শিবিরের নেতাদের টেনে বের করে দেন। জকসুর নেতারা মিলনায়তনে প্রবেশমুখে বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে।
এ বিষয়ে এক ফেসবুক পোস্টে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম জানান, আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাইবিষয়ক এক সেমিনারে ইউজিসির চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এসময় জকসু,ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরাসহ কিছু শিক্ষার্থী কিছু দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ভেতরে ঢুকতে গেলে বাধা দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় আমি মিলনায়তনের ভেতর গেটে থেকে এসে তাদের ভেতরে নিয়ে যেতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ বাকিরা ধাক্কাধাক্কি করে। এসময় প্রক্টরিয়াল বিডির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য বাইরে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ঢুকতে না পেরে বাইরেই বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, জাতীয় ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেছেন, আমরা ওই ঘটনার পরে সবাই মিলনায়তনের ভেতরে গিয়েছিলাম। পরবর্তী সময়ে প্রোগ্রাম শেষে বের হয়ে যখন শহীদ মিনারের সামনে আসি এখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা তখনই আমাদের সবার ওপরে আক্রমণ করে। তারা আমাকে মেরেছে। আমার দলের সেক্রেটারি ফেরদৌসসহ বাকি যারা ছিলেন সবাইকে মেরেছে। জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ যারা ছিলেন সবাইকেই আঘাত করেছে ছাত্রদল। আমাকে প্রতিনিয়ত থ্রেট দিয়ে যাচ্ছে।
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএস এবং জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, সেক্রেটারি ফেরদৌস শেখ, জবি ছাত্র ফ্রন্টের ইভান তাহসিভসহ অনেকে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাস উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
এই ঘটনার পর ক্যাম্পাস জুড়ে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।






