জবিতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ : তদন্ত কমিটি গঠন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জুলাই বিষয়ক এক সেমিনার চলাকালে অডিটোরিয়ামের বাইরে ছাত্রদল-শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জবি প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দিন। ওই আলোচনা সভা চলাকালে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের বাইরে কতিপয় শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। ওই ঘটনা তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রদানের জন্য নিম্নবর্ণিত সদস্যদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।
চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে আছেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা হাসান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ উল আলম সওদাগর ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল্লাহ।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আগামীর সময়কে বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আয়োজিত প্রোগ্রামে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। তাকে বিতর্কিত করার জন্য ছাত্র শিবির ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো পূর্বপরিকল্পিতভাবে চেয়ারম্যানকে অপমানিত করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমরা তাদেরকে বিনয়ের সাথে সরে যেতে বলেছিলাম, তারা সরেনি। এক পর্যায়ে এগিয়ে আসলে মারামারি লেগে যায়। এ হামলায় ছাত্রদলের অনেক নেতা কর্মী আহত হয়েছেন।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিষয়ক এক সেমিনারে ইউজিসির চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। এসময় জকসু, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা সহ কিছু শিক্ষার্থী কিছু দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ভিতরে ঢুকতে গেলে বাঁধা দেয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় আমি তাদের ভিতরে নিয়ে যেতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ বাকিরা ধাক্কাধাক্কি করে। এসময় প্রক্টরিয়াল বিডির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য বাইরে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ঢুকতে না পেরে বাইরেই বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। কিন্তু প্রোগ্রাম শেষে ছাত্রদলের জড়ো হয়ে থাকা নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারের সামনে আমাদের ওপর হামলা করেন।
আহত জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেছেন, আমরা যখন প্রোগ্রাম শেষ করে অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়ে আসি ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আমাদের সবার ওপর হামলা করে। আমার সেক্রেটারি, জকসুর ভিপি, জিএস, এজিএসসহ সবাইকে মারতে থাকে। লাঞ্ছিত করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দিয়েছে ভিপি, জিএস ও সমাজসেবা সম্পাদককে। তারা আমাকে থ্রেট দিচ্ছে।
এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জবি প্রশাসন।






