৪ শিক্ষার্থীর জন্য স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে ঢাবি
- গচ্চা যাবে ১০ লাখ টাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ফারসি সাহিত্য বিভাগে স্থায়ী প্রভাষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিভাগের বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা খুবই কম। বিদ্যমান শিক্ষকও রয়েছেন। ক্লাস লোড বিবেচনায় এ মুহূর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা।
তাদের দাবি, ফারসি বিভাগের চারটি কোর্স—এলিমেন্টারি, সিনিয়র, ডিপ্লোমা ও হায়ার ডিপ্লোমার মধ্যে বর্তমানে কেবল এলিমেন্টারি কোর্সে শিক্ষার্থী রয়েছে। অন্য তিনটি কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী নেই। এলিমেন্টারি কোর্সেও শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র চারজন। ফলে বর্তমানে কর্মরত দুইজন খণ্ডকালীন শিক্ষকেরই প্রয়োজনীয় ক্লাস লোড পূরণ হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, একজন স্থায়ী শিক্ষককে সপ্তাহে ন্যূনতম ১৬টি ক্লাস নেওয়ার মতো ক্লাস লোড থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমানে বিভাগে সেই পরিমাণ পাঠদান কার্যক্রম না থাকায় নতুন স্থায়ী প্রভাষক নিয়োগকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের ভাষ্য, এ অবস্থায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ব্যয় বাড়বে, যার বাস্তব প্রয়োজন নেই।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিশেষ মহলের চাপে আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের প্রশাসন নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তাদের মতে, এটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক প্রয়োজনের চেয়ে বিলাসিতার শামিল এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটাবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শিক্ষাবর্ষে এলিমেন্টারি কোর্সে পাঁচজন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনজন চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও খুবই কম। অন্যদিকে প্রি-ইন্টারমিডিয়েট, ডিপ্লোমা ও হায়ার ডিপ্লোমা—এই তিনটি কোর্সে বর্তমানে কোনো শিক্ষার্থী নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় চার দশকের পুরোনো ফারসি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমে একসময় চারটি স্তরেই পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ছিল। তবে গত প্রায় এক দশক ধরে বিভাগটি ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ও কার্যকর ভাষা শিক্ষার পরিবেশ গড়ে না ওঠায় অনেক শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করতে না পেরে মাঝপথেই কোর্স ছেড়ে দেন। ফলে পরবর্তী স্তরের কোর্সগুলোও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।




