ঢাবির সাংবাদিকতা-থিয়েটারসহ ৮টি বিভাগকে তিনটি করার আলোচনা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমজাতীয় ও একসময় একসঙ্গেই ছিল— এমন আটটি বিভাগকে এক করে তিনটিতে রূপারন্তর করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভাগগুলোর মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাসহ সামাজিকবিজ্ঞান অনুষদের তিনটি ও থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজসহ কলা অনুষদের পাঁচটি বিভাগ রয়েছে।
গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমিটির সভায় এসব বিভাগকে একীভূত করার বিষয়ে প্রস্তাব এসেছে। সেই সভার কার্যবিবরণী বলছে, বিভাগগুলো একীভূত করার বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব দেবেন সংশ্লিষ্ট ডিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমিটির ২২ জুনের ওই সভার কার্যবিবরণীর আলোচ্যসূচিতে আটটি বিভাগকে একীভূত করার বিষয়টি ছিল না। তবে ডিনদের আলোচনায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধ্যয়ন বিভাগকে একীভূত করা; থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ, সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগকে একীভূত করা এবং সংস্কৃত ও পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগকে একীভূত করার প্রস্তাব আসে। সভার কার্যবিবরণীতে ‘বিবিধ’ অংশে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিনরা বিভাগগুলোর চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব পেশ করবেন বলেও সেখানে বলা হয়েছে।
২০১২ ও ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকের উদ্যোগে দুটি নতুন বিভাগ খোলা হয়। এগুলো টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগ ও প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগ। এর মধ্যে টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগটি খোলা হয় ২০১২ সালে। সেখানে চেয়ারম্যান ও শিক্ষক হন সাংবাদিকতা বিভাগেরই শিক্ষক ও একই বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা। আর প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগটি খোলা হয় ২০১৫ সালে। এর প্রথম চেয়ারম্যান সুধাংশু শেখর রায় দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। বর্তমান বিভাগটির পূর্ণকালীন শিক্ষকদেরও প্রায় সবাই সাংবাদিকতা বিভাগ থেকেই পড়াশোনা করা।
একসময় সংস্কৃত ও পালি একটি বিভাগ ছিল। ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পালি আলাদা হয়ে পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগ নামে যাত্রা শুরু করে। সংস্কৃতও আলাদা বিভাগ হিসেবে থেকে যায়। এ ছাড়া ১৯৯৪ সালে ‘নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগ’ নামে যাত্রা শুরু করা বিভাগটিকে বিভক্ত করে ২০০৯ সালে দুটি বিভাগ করা হয়— নাট্যকলা বিভাগ ও সংগীত বিভাগ। পরে ২০১৪ সালে নাট্যকলা বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ’ করা হয়, তবে সংগীত বিভাগের নাম অপরিবর্তিত আছে।
আট বিভাগকে একীভূত করা প্রসঙ্গে এক শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানান, কিছু বিভাগ ভর্তির সময় শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। বাজারে চাহিদা না থাকার কারণে কিছু বিভাগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার কিছু বিভাগ খোলা হয়েছিল শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে দলভারী করার জন্য। এসব বিবেচনা থেকেই একীভূত করার আলোচনাটি সামনে এসেছে।
কার্যবিবরণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) আবদুস সালামের স্বাক্ষর রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, কিছু বিভাগকে একীভূত করার বিষয়টি ডিন’স কমিটির সভার এজেন্ডাভুক্ত ছিল না। তবে সভার আলোচনায় বিষয়টি উঠে এসেছে। ডিন’স কমিটির পরবর্তী সভায় বিষয়টি আলোচনা হবে। বিভাগগুলো যদি একীভূত হতে চায়, তাহলে একরকম আর না চাইলে তখন আরেক রকম, যা হবে সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই।






