বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে ভিসা সহজ করার কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষক, বিশেষ করে চীন থেকে আসা ভাষাশিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বললেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়া এবং বিদেশ থেকে দেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসাসংক্রান্ত যেসব জটিলতা ছিল, সেগুলো নিরসনে আগে থেকেই আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটিও কাজ করেছে। এখন শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া কিংবা শিক্ষাবিষয়ক বিনিময় কার্যক্রমে আর অযথা বাধার মুখে পড়তে না হয়।
তিনি জানালেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক যাতায়াত এবং শিক্ষা বিনিময় কার্যক্রম সহজ করার বিষয়েও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষা খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর শিক্ষা খাতে যেসব সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করেছে। ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে কাজ করতে চীন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে।
তার স্পষ্ট মন্তব্য, শিক্ষা খাতের পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে চীন সফর করা হয়েছে এবং সেখানে কয়েকটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে।
মিলন বলেন, চীনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করাই এ সহযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য।
চীনের শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগের কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশও এ ধরনের একটি মডেল অনুসরণ করতে চায়। এ জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বললেন, চীনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে বৃত্তির সুযোগও রয়েছে।
টিভেট খাতে যৌথ সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি কয়েকটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি সনদ ও প্রশিক্ষণ কোর্সের পাশাপাশি ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। পরে তাদের বিদেশের কর্মবাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হবে।
এদিকে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা ভাষাশিক্ষকদের ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা ছিল বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব ভিসা আরও সহজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।







