কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, একজন আহত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্নিবীণা হলের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকারের কর্মী তামজিদ আহমেদ লাবিব। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর লাবিবকে ত্রিশাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার মাথায় ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের কর্মীদের সঙ্গে সদস্য সচিব মামুন সরকারের কর্মী রাশেদুল হাসান রাতুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ অগ্নিবীণা হলের সামনে জড়ো হলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে এক পক্ষ অগ্নিবীণা হল থেকে বিদ্রোহী হলের দিকে ধাওয়া দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় লাবিবসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ জানান, ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ যাতে কোনোভাবেই পরিস্থিতি ঘোলাটে করার সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সজাগ ভূমিকা পালন করবেন।
শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পরিবেশ শান্ত করতে ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ বা অরাজকতার অবসান চান। পাশাপাশি ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে একটি পক্ষ এমন অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংঘর্ষের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান জনি জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। তবে সংঘর্ষের আগে ক্যাম্পাসে তৈরি হওয়া বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিস্থিতিকে প্রশাসন সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করেছিল কি না এবং সংঘর্ষ এড়াতে আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে প্রক্টরের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





