গৌরবের ১৩ বছরে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

খন্দকার আরাফাত আলী
মানসম্মত উচ্চশিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে এগিয়ে চলছে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এফআইইউ)। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরে এসে শিক্ষা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে নিজেকে অনন্য করে তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারের অনুমোদন পেয়ে যাত্রা করে এফআইইউ। পরে ২০১৪ সালের স্প্রিং সেমিস্টার থেকে রাজধানীর বনানীর ১১ নম্বর রোডে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানসম্মত ও সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চলছে নিরলস চেষ্টা।
বর্তমানে ফারইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৯টি প্রোগ্রামে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করছেন দুই হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। এরই মধ্যে শিক্ষাজীবন শেষ করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে কর্মজীবন পরিচালনা করছেন চার হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী। এফআইইউর সাবেক শিক্ষার্থীরা ব্যবসা-বাণিজ্য, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা, প্রকৌশল, আইনসহ বিভিন্ন পেশায় রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি: বিশ্ববিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রায় অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হচ্ছে এর প্রথম সমাবর্তন। ২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় সমাবর্তনটি। এ আয়োজন এফআইইউর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের জন্য একটি গৌরবময় মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাসে আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ: শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত অ্যাকাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমানে এফআইইউ ঢাকার উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পাঁচটি অনুষদের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলার ওপর।
শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব: এফআইইউ মনে করে, একজন শিক্ষার্থীকে শুধু অ্যাকাডেমিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করাই যথেষ্ট নয়; বরং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন, সৃজনশীলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি ও দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা অর্জনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উৎসাহিত করে আসছে বিভিন্ন এক্সট্রা কারিকুলার ও কো-কারিকুলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ক্লাব বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন ইভেন্টে এফআইইউ স্পোর্টস ক্লাব ১৯ বার ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং এর মধ্যে ১০ বারেরও বেশি শিরোপা অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে। এসব সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ।
এ ছাড়া এফআইইউ কালচারাল ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব, ইনোভেশন টেক্সটাইল ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব, ব্লাড ডোনেশন ক্লাব, ডিবেট ক্লাব ও বিজনেস ক্লাব শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংস্কৃতিচর্চা, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবিক কার্যক্রম এবং ব্যবসায়িক ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সংগঠন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
শিক্ষার্থীবান্ধব নানা উদ্যোগ: শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে অন্যতম শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বাস সার্ভিস। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যাতায়াতের সুবিধার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ পরিবহন ব্যবস্থা।
লেখক : ডেপুটি ডিরেক্টর (পিআর), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।



