জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তন-২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সমাবর্তনে অংশগ্রহণে যোগ্য গ্র্যাজুয়েটদের কাছ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে নিবন্ধন আবেদন গ্রহণ শুরু করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে নিবন্ধন ও মূল সনদের জন্য নির্ধারিত ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তাদের অভিযোগ, হলবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সমাবর্তনের এই ব্যয় বহন করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। ফলে নির্ধারিত ফি নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি সমাবর্তনে অংশগ্রহণের আগ্রহেও ভাটা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ২০ নভেম্বর ২০২৬, শুক্রবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমান এবং ২০১৬-১৭ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর, এমফিল বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী অন্যান্য যোগ্য শিক্ষার্থী ও গবেষকেরাও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নিবন্ধন ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্ধারণ করা ফি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা। স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানের জন্য ৬ হাজার টাকা, এমফিল ও পিএইচডির জন্য ৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর (প্রফেশনাল/সান্ধ্যকালীন) পর্যায়ের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মূল সনদের জন্য স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমান পর্যায়ে ৫০০ টাকা, স্নাতকোত্তর, এমবিএ বা সমমানে ৬০০ টাকা, এমফিল ও পিএইচডির ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা এবং স্নাতকোত্তর (প্রফেশনাল/সান্ধ্যকালীন) পর্যায়ে ৮০০ টাকা দিতে হবে। ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে।
ফি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ
নির্ধারিত ফি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের অনেকের পক্ষেই এত টাকা দিয়ে সমাবর্তনে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। আমরা এমনিতেই বাসা ভাড়া করে থাকি। এত টাকা সত্যিই হলবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চাপ। তাই অনেকে সমাবর্তনে অংশ নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুজাহিদ বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, খালি টুপির জন্য ৫০০ রাখেন স্যার, আমি আম্মার বোরকাটা পরে আসব। এত বাজেট নেই স্যার।
প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় বেড়েছে ফি
এর আগে ২০১৯ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে বছর স্নাতক (সম্মান), বিবিএ বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৩ হাজার টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রির জন্য ৪ হাজার টাকা এবং এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রির জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব পর্যায়ে মূল সনদের ফি ছিল ৪০০ টাকা। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর (ইভিনিং/এক্সিকিউটিভ) ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা এবং মূল সনদের ফি ৮০০ টাকা।
তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবারের নিবন্ধন ফি প্রতিটি ডিগ্রি শ্রেণিতে ২ হাজার টাকা করে বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল সনদের ফি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যথাক্রমে ১০০ ও ২০০ টাকা বেড়েছে। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রির মূল সনদের ফি বেড়েছে ৬০০ টাকা। তবে স্নাতকোত্তর (প্রফেশনাল/সান্ধ্যকালীন) পর্যায়ে মূল সনদের ফি অপরিবর্তিত রয়েছে।





