জাককানইবিতে তিন সংঘর্ষ, জবাবদিহি নেই প্রশাসনের

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আড়াই মাসে তিন দফা সংঘর্ষে ছয় শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনায় আহত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজনের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। আগের দুই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত না হওয়ায় প্রশাসনের জবাবদিহি ও প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, সর্বশেষ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২৯ জুলাই অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার সময় শিক্ষার্থী রিজওয়ানুল করিম রাব্বিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরপর ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী তামজিদ আহমেদ লাবিব আহত হন। ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মাথায় ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়। এ ঘটনাতেও আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে নজরুল প্রিমিয়ার লীগ (এনপিএল) ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে।
এতে পাঁচজনের মাথায় আঘাত লাগে। তাদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী রুবিউল ও সাকিবের অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরটিভি প্রতিনিধি আবু তাহের মণ্ডলের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনার পরদিন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক বিদ্রোহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। পক্ষপাতের আশঙ্কা এড়াতে কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের সদস্যও রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তিনি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেছেন, প্রক্টরের সামনে মারামারি বা বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রক্টর যে-ই হোন, তার ওপর হামলা বা চড়াও হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক। তবে প্রক্টরের পদত্যাগেই সব সমস্যার সমাধান হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়ে উপাচার্য বলেছেন, প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করে প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত। অভিযোগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ধারাবাহিক সংঘর্ষ ঠেকাতে প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা কার্যকর ছিল না। সর্বশেষ ঘটনার তদন্ত কমিটিতে প্রক্টরকে সদস্য-সচিব রাখায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাদের একাংশ।
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী শিহাব জানালেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাহীনতা পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিচার নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা বন্ধ হবে না। মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সৈকত মাথায় আঘাতের গুরুতর ঝুঁকির কথা তুলে ধরে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুদীপ্তও ক্যাম্পাসের অস্থিতিশীলতা কাটাতে প্রশাসনের কার্যকর সিদ্ধান্ত চেয়েছেন।




