একই সিলিন্ডারে ডাবল ভ্যাট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একই প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন সিলিন্ডার উৎপাদন ইউনিট থেকে বটলিং প্ল্যান্টে এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আরোপিত ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবং লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, অধিকাংশ এলপিজি অপারেটর নিরাপত্তাজনিত কারণে সিলিন্ডার উৎপাদন কারখানা ও বটলিং প্ল্যান্ট আলাদা স্থানে পরিচালনা করে থাকে, যাদের পৃথক বিআইএন নম্বরও রয়েছে। উভয় ইউনিট একই কোম্পানির মালিকানাধীন হলেও উৎপাদিত সিলিন্ডার বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয় না, বরং তা শুধু নিজস্ব এলপিজি বটলিং ও সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত হয়।
সিলিন্ডার উৎপাদনে কাঁচামালের ওপর এরই মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করা হয়। এরপর প্রস্তুত করা সিলিন্ডার উৎপাদন ইউনিট থেকে বটলিং প্ল্যান্টে স্থানান্তরের সময় খরচমূল্যের ওপর ফের ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়, যা সমন্বয়যোগ্য নয়। ফলে একই সিলিন্ডারের ওপর কার্যত দ্বৈত ভ্যাট আরোপিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
লোয়াবের বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী বটলিং প্ল্যান্টে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা দূরত্ব ও অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সিলিন্ডার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ওয়েল্ডিং, কাটিং, তাপ উৎপাদন ও দাহ্য গ্যাসের ব্যবহার জড়িত থাকায় এ দুটি কার্যক্রম একই স্থানে পরিচালনা করলে অগ্নিকাণ্ড এবং বিস্ফোরণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে দুই ইউনিট পৃথক স্থানে স্থাপন করা কোনো সুবিধার বিষয় নয়, বরং তা আইনি ও নিরাপত্তাগত বাধ্যবাধকতা।
এছাড়া, প্রতিটি কোম্পানির নাম সিলিন্ডারের গায়ে স্থায়ীভাবে খোদাই থাকে, ফলে এক কোম্পানির সিলিন্ডার অন্য কোম্পানি ব্যবহার করতে পারে না। এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সিলিন্ডার নিজেই ব্যবহার করছে।
জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে লোয়াব জানায়, অভ্যন্তরীণ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ক্রমেই কমে আসছে, অন্যদিকে এলএনজি আমদানিও চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। উচ্চঅবকাঠামো ব্যয়ের কারণে গ্যাস পাইপলাইন সম্প্রসারণও সীমিত। এই বাস্তবতায় বিস্তৃত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ছাড়াই সহজে পরিবহনযোগ্য হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এলপিজি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করা হয় আবেদনে।
সংগঠনের মতে, সরকারও নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সরবরাহ ও পাইপলাইন সংযোগের ঘাটতির কারণে আবাসিক, যানবাহন, বাণিজ্যিক এবং ক্ষুদ্র শিল্প খাতে এলপিজি ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তঃইউনিট স্থানান্তরের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের চাপ কমাবে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য এলপিজির দাম সাশ্রয়ী রাখতে হবে সহায়ক।
এনবিআর সদস্য (মূসকনীতি) মো. আজিজুর রহমান আগামীর সময়কে বললেন, ‘লোয়াবের আবেদনটি পর্যালোচনাধীন। তবে কোনো বিষয়ে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা বর্তমানে এনবিআরের কাছে নেই। এটি সংসদে পাস হতে হয়। তাদের দাবি যৌক্তিক হলে তারা অব্যাহতি পাবে।’





