রূপপুর সঞ্চালন লাইন নির্মাণ ব্যাহত
জ্বালানি সংকট
- সময় বাড়িয়েও শেষ হচ্ছে না কাজ
- ফের ছয় মাস বাড়ছে মেয়াদ, ডলারের দাম বাড়ায় বাড়তে পারে ব্যয়ও
- ফেব্রুয়ারি-মার্চে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সরবরাহ সম্ভব হয়নি

সংগৃহীত ছবি
ডিজেল সংকটের ধাক্কা লেগেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য দুটি রিভার ক্রসিং সঞ্চালন নির্মাণে। সেই সঙ্গে আরও কিছু জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না কাজ। নতুন করে ব্যয় না বাড়লেও আরেক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে ছয় মাস। সেই সঙ্গে ডলারের দাম বাড়ায় বাড়তে পারে ব্যয়ও। ‘যমুনা ও পদ্মা নদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভ্যাকুয়েশন সংশ্লিষ্ট ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি রিভার ক্রসিং সঞ্চালন লাইন নির্মাণ’ প্রকল্পে এমন ঘটনা। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মারুখ। ওই সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্ক্রিমটির পরিচালক সভায় জানিয়েছেন, স্কিমের সঞ্চালন লাইনের আওতায় যমুনা নদীর অভ্যন্তরে টাওয়ার ফাউন্ডেশন নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কাজ বাস্তবায়নের জন্য বড় আকারের ক্রেন বার্জ, টাগ বোট, অ্যাঙ্কর বোট, ডিজেল জেনারেটর, কাটার সাকশন ড্রেজারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়। নদীর অভ্যন্তর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় টাওয়ার ফাউন্ডেশন নির্মাণ, টাওয়ার ইরেকশন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য প্রতিদিন গড়ে ৬-৭ হাজার লিটার এবং সাপ্তাহিক প্রায় ৫০ হাজার লিটার এইচএসডি ডিজেল (হাই স্পিড ডিজেল) প্রয়োজন হতো। তবে গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতার কারণে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণ কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে ফাউন্ডেশন নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
পরিচালক আরও জানিয়েছেন, গত মে মাসে যমুনা নদীর পানির স্তর বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় অধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় টাওয়ারের পাইল ক্যাপ ও বিম নির্মাণের কাজের উপযুক্ত কর্মমৌসুম সীমিত হয়ে পড়ে। পরে চলমান বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানির স্তর প্রত্যাশিত সময়ের আগেই বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর অভ্যন্তরে ও নদীতীরবর্তী এলাকায় ফাউন্ডেশন নির্মাণকাজের স্বাভাবিক অগ্রগতি আরও ব্যাহত হয়। একই কারণে টাওয়ার ইরেকশনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নির্মাণকাজও বিলম্বিত হচ্ছে। এসব কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্কিমের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যায়ে স্কিম পরিচালক প্রস্তাবিত বর্ধিত মেয়াদ, অর্থাৎ ৩১ মার্চ ২০২৭ তারিখের মধ্যে স্কিমের অবশিষ্ট সব কাজ সম্পন্ন করতে একটি বিস্তারিত ও কার্যকর অ্যাকশন প্ল্যান স্কিম স্টিয়ারিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করেন।
সূত্র জানায়, এই সঞ্চালন লাইন স্কিমটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ৫৪২ কোটি ২৩ লাখ এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই স্কিমটির মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর। পরে একবার ব্যয় বাড়ানো ছাড়া মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এখন আরও ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদ করা হচ্ছে। প্রকল্পের এই স্কিমের আওতায় রূপপুর-ঢাকা ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট রিভার ক্রসিং অংশ ৭ কিলোমিটার, পদ্মা নদীতে রূপপুর-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভির সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের রিভার ক্রসিং অংশ ২ কিলোমিটার এবং যমুনা নদীতে রূপপুর-ধামরাই ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের রিভার ক্রসিং অংশ ৭ কিলোমিটার নির্মাণ সংস্থার রয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান সভায় বলেছেন, ঠিকাদারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টের পরিমাণ নেগেটিভ হওয়ায় পাওয়ার গ্রিড ঠিকাদারের কাছ থেকে ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ঠিকাদারের কাজ সম্পাদনে বিলম্বের কারণগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে। চুক্তির শর্তানুযায়ী দেরি হওয়ার জন্য কোনো যুক্তিসংগত কারণ না থাকলে ঠিকাদারের ওপর লিকুইডেট ড্যামেজ আরোপ করা হবে।



