মেট্রোরেলের ৯ স্টেশন ও গুলশানে চালু হলো ফ্রেশ সুপার মার্ট

ফ্রেশ সুপার মার্টের আউটলেট উদ্বোধন করেন এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।
নগরজীবনের দৈনন্দিন কেনাকাটা আরও সহজ ও দ্রুত করতে রিটেইল ব্যবসায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই)। প্রতিষ্ঠানটি একযোগে ঢাকার মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬-এর ৯টি স্টেশন এবং গুলশান-১ এলাকায় ফ্রেশ সুপার মার্টের নতুন আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
গুলশান-১ এলাকার ৩৪ নম্বর সড়কের হাউজ-৪৮-এ অবস্থিত ফ্রেশ সুপার মার্টের আউটলেট উদ্বোধন করেন এমজিআইয়ের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমজিআইয়ের পরিচালক তাহমিনা মোস্তফা, তানজিমা মোস্তফা, তানভীর মোস্তফা ও ব্যারিস্টার তাসনিম মোস্তফা, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তায়েফ বিন ইউসুফ, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হেড অব এক্সপোর্ট সামিরা রহমান, ওয়াশিকুর রহমান, রাশিক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গুলশানের আউটলেটের পাশাপাশি ফ্রেশ সুপার মার্টের নতুন শাখা চালু হয়েছে মেট্রোরেলের মতিঝিল, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, পল্লবী, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা নর্থ সি গেট এবং উত্তরা নর্থ ডি গেট স্টেশনে। এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে তেজগাঁও, মেঘনাঘাট এবং মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে (এমআইইজেড) তিনটি আউটলেট চালু করা হয়।
আউটলেট উদ্বোধনের সময় এমজিআই চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নগরজীবন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং পরিবর্তন এসেছে মানুষের কেনাকাটার ধরনেও।
মোস্তফা কামাল উল্লেখ করেন, ‘প্রতিদিনের যাত্রাপথেই গ্রাহকরা যেন সহজে, দ্রুত ও মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করা হয়েছে।’ তিনি আশাবাদী, ‘দেশের রিটেইল খাতে নতুন মানদণ্ড তৈরি করবে এটি।’
এমজিআই চেয়ারম্যান সন্তোষ প্রকাশ করেন, এমজিআই ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে মানসম্মত পণ্যের বিশ্বস্ত নাম হিসেবে কাজ করছে। গ্রাহকদের হাতে সরাসরি এমজিআইয়ের ব্র্যান্ডেড পণ্য পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে।
দেশের খুচরা বাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করলেন, বাংলাদেশে আধুনিক সুপারশপ ও ব্র্যান্ডভিত্তিক রিটেইল আউটলেটের অংশ এখনও পাঁচ শতাংশের কম। এ ব্যবধান কমাতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিকভাবে সারা দেশে আরও ৫০টি আউটলেট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা যায়, দেশের বিদ্যমান সুপারশপ ও হাইপারমার্কেটের তুলনায় ভিন্ন ধারণা নিয়ে এসেছে ফ্রেশ সুপার মার্ট। ব্যস্ত মানুষের চলার পথেই প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে ছোট পরিসরের আউটলেট গড়ে তোলা হয়েছে। টোকিও, সিউল ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে এ ধরনের মডেল এরই মধ্যে জনপ্রিয়।
বর্তমানে এমআরটি লাইন-৬ প্রতিদিন প্রায় চার লাখ যাত্রী পরিবহন করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পর এ সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ফ্রেশ সুপার মার্টের সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রতিটি আউটলেটে দুগ্ধজাত ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী, কসমেটিকস এবং ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ইন-স্টোর ক্যাফেতে কফি ও বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস উপভোগের সুযোগ থাকবে। ফ্রেশ ব্র্যান্ডের পণ্যের পাশাপাশি দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্যও বিক্রি করা হবে।
বাংলাদেশের খুচরা বাজারে ফ্রেশ সুপার মার্ট প্রবেশ করছে সম্ভাবনাময় এক সময়ে। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশের খুচরা বাজার গড়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। তবে আধুনিক খুচরা বাজারের অংশ এখনও মোট বাণিজ্যের পাঁচ শতাংশেরও কম। আন্তর্জাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে।




