প্রকল্প সংকটে পরিকল্পনা কমিশন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রকল্প সংকটে পড়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সবসময় ব্যাপক প্রকল্পের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থায় থাকা এই প্রতিষ্ঠানটিতে এখন বিরাজ করছে ভিন্নচিত্র। মন্ত্রণালয়গুলো থেকে তেমন প্রকল্প প্রস্তাব আসছে না। খাত অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেখানে দিনে সাত-আটটি পর্যন্ত প্রকল্পের পিইসি (প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হতো। এখন সেখানে সপ্তাহে একটি হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এমন অবস্থা তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ব্যস্ত কর্মকর্তারা অলস সময় কাটাচ্ছেন। এর পেছনে রয়েছে অন্য কারণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কমিশন। এ কারণে মন্ত্রণালয়গুলো নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। একান্তই বাধ্য হয়ে সংশোধনের প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন। এদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হতে চান না অনেক কর্মকর্তাই। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের শেষ সময় হওয়ায় এমনটা হয়েছে। নতুন এডিপির বাস্তবায়ন শুরু হলেই আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বললেন, আগের সরকারের যেনতেন প্রকল্প তো আমরা দিতে পারি না। এখন অনেক যাচাই-বাছাই করেই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের নামে দুর্নীতি ও অপচয় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের ফ্লো একটু কম। এ ছাড়া অর্থবছর শেষ হয়ে যাচ্ছে, এটিও একটি কারণ। জুলাই থেকে নতুন এডিপি বাস্তবায়ন শুরু হলে তখন নতুন প্রকল্প প্রস্তাব আসতে শুরু করবে।
সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় পরিকল্পনা বিভাগের একনেক/এনইসি অনুবিভাগে অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ করা অর্ধশতাধিক প্রকল্প ছিল অনুমোদনের অপেক্ষায়। সেজন্য এ সরকারের প্রথম একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া সর্বশেষ অনুষ্ঠিত তিনটি একনেক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৩ মে অনুষ্ঠিত একনেক উপস্থাপন করা হয় ১৬টি প্রকল্প। এ ছাড়া ৯ জুন উপস্থাপন করা হয় ১৩টি এবং ১৬ জুন একনেকে উপস্থাপন করা হয়েছিল পাঁচটি উন্নয়ন প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই ছিল সংশোধিত প্রস্তাব। আগামী একনেকের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে মাত্র ছয়টি প্রকল্প। এগুলো হলো বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়) জেলার সমন্বিত উন্নয়ন, ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। এ ছাড়া মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা, ব্যয় ৬৮৫ কোটি টাকা। পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যয় ২ হাজার ৮২ কোটি টাকা। দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ-সংস্কার ও উন্নয়ন, ব্যয় ৮৮০ কোটি টাকা। সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-দ্বিতীয় পর্যায়, ব্যয় ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন-সিলেট বিভাগ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগে আগে দিনে পাঁচ-সাতটি প্রকল্পের পিইসি সভা হলেও এখন সপ্তাহে একটি করে হচ্ছে। কৃষি-পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে এখন দিনেও একটি পিইসি হয় না। ভৌত অবকাঠামো বিভাগে নিয়মিত পিইসি সভা হলেও আগের মতো চাপ নেই। এ ছাড়া শিল্প ও শক্তি বিভাগেও প্রকল্প কমে গেছে। একজন সাবেক প্রকল্প পরিচালক জানান, এখন কেউ পিডি হতে চায় না। কারণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক ব্যয়ই খরচ কমানোর নামে কেটে দিচ্ছে পরিকল্পনা কমিশন। তাহলে প্রকল্প চলবে কীভাবে?




