জিউঝো ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে ৩১৮ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ

ব্যাটারি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিউঝো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩১৮ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও পরে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক নথিপত্র যাচাই করে ৩১৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (মূল্য সংযোজন কর)।
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জিউঝো ইন্ডাস্ট্রি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি ইলেকট্রিক ভেহিকল, ইজিবাইক, অটোরিকশা ও ভ্যানের জন্য ব্যাটারি উৎপাদন করে। কারখানা থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকার ডিলারদের কাছে সরাসরি পাইকারি পর্যায়ে ব্যাটারি সরবরাহ করা হয়।
গত ৩ আগস্ট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একটি বিশেষ নিবারক দল প্রতিষ্ঠানটির রূপগঞ্জের কারখানায় অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন বাণিজ্যিক দলিল, হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি জব্দ করা হয়।
ভ্যাট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জব্দ করা নথিপত্র ও বাণিজ্যিক দলিল পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির গত দুই অর্থবছরের ২১ মাসের ভ্যাট পরিশোধ–সংক্রান্ত হিসাব পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০২৪–২৫ ও ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ওই সময়ের উৎপাদন ও বিক্রয়ের তথ্যের সঙ্গে ভ্যাটের হিসাব মিলিয়ে দেখার পর এই রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়।
অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। উৎপাদন ও বিক্রয়ের প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে ভ্যাট–সংক্রান্ত হিসাবের অসংগতিও তদন্তে ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায়ে ভ্যাট আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জিউঝো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত উৎপাদন, বিক্রয় ও রাজস্ব–সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ভ্যাট ফাঁকি শনাক্তে গোয়েন্দা নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ সরকারের রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজস্ব ফাঁকি রোধ, সরকারের প্রাপ্য রাজস্ব নিশ্চিত করা এবং ভ্যাট ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নিবারক অভিযান ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।







