চীনের অনুদানে নীলফামারীতে হাসপাতাল
বছরে চিকিৎসা পাবেন ৭ লাখ মানুষ
- এগোচ্ছে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া

নির্ধারিত স্থানটি পছন্দ করেছে চীন। ফাইল ছবি
নীলফামারীতে আধুনিক ১ হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণে অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চীন। সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধিদল পরিদর্শন করেছে নীলফামীর সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসের পাশে প্রায় ২৫ একর জায়গা। তারা পছন্দ করেছেন সরকার-নির্ধারিত জায়গাটি। চীনা দলটি স্থানটি উপযুক্ত বলে জানিয়েছে। এখন চলছে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) দায়িত্বশীল সূত্র গত রবিবার আগামীর সময়কে জানিয়েছে, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণে চীনের দিক থেকে অনেক অগ্রগতি আছে। এমনকি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। তবে কবে নাগাদ চুক্তি হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারা সবকিছুই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। প্রথম দিকে অনুদান প্রক্রিয়ায় ধীরগতি থাকলেও এখন সে অবস্থা কেটেছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এর মধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে প্রকল্প প্রস্তাব। নীলফামারীতে ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ’ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন অনুদান হিসেবে দেবে ২ হাজার ২১৯ কোটি, বাকি ২৪০ কোটি টাকা খরচ করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এক হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি তৈরি হলে প্রতিদিন ৬ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মানুষ সেবা নিতে পারবেন। ইনডোরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হতে পারে ৮০০ থেকে ১ হাজার। এ ছাড়া বহির্বিভাগে দৈনিক রোগী আসবে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ জন। এসব সেবা কার্যক্রম পরিপালনের জন্য দরকার হবে এক থেকে দেড় হাজার চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, চীন সরকার প্রায় দুই বছর আগে বাংলাদেশে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করার আগ্রহ দেখায়। তখন বিভিন্ন জেলা থেকে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন আসে। অনেক যাচাই-বাছাই করে শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নীলফামারীতে এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, আশপাশের জেলাগুলোয় ভালো হাসপাতাল থাকলেও নীলফামারীতে নেই। এরপর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরিতে চলে যায় বেশ খানিকটা সময়। অবশেষে গত জানুয়ারিতে এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গত এপ্রিলে এটির কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জায়গা নির্ধারণ এবং অনুদান চুক্তির কারণে সেটি হয়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় দশতলার ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ ভবন তৈরি করা হবে। এ ছাড়া নার্সদের জন্য ছয়তলা ডরমিটরি এবং অন্য কর্মচারীদের জন্য দশতলা ভবন তৈরি করা হবে। থাকবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ভবন, সার্ভিস ভবন, একটি হেলিপ্যাড ও অটোমেটেড অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ব্যয় হবে ৯৪৫ কোটি, ভবন নির্মাণে ৮০২ কোটি এবং সোলার প্যানেল, সিসিটিভি ও আনুষঙ্গিক কাজে ২৪৮ কোটি টাকা।
জানা যায়, হাসপাতালটির বহির্বিভাগের চিকিৎসক দেখানোর ফি হবে ৫০-১০০, বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ ফি ১০০-৩০০, জরুরি বিভাগের ফি ১০০-২০০, প্রাথমিক রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা ২৫০-৫০০, রোগ নিরূপণে বিশেষায়িত পরীক্ষার খরচ হতে পারে ৫-১০ হাজার টাকার মধ্যে। এ হাসপাতালটি আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করবে।



