অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

বাংলাদেশ ব্যাংকের বাস্তবায়িত ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট’-এ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কাজ শুরু হচ্ছে। এজন্য গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠক আজ সোমবার অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন সংস্থাটির সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী।
আইএমইডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র আগামীর সময়কে জানিয়েছে, এটি ছিল একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, যা এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পুরনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।
আইএমইডির সচিবকে প্রধান করে গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান বা যুগ্ম প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক এবং আইএমইডির সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মহাপরিচালক।
তদন্তাধীন প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল ২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা তৎকালীন বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কাজ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রথম বৈঠকে তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। এগুলো হলো— প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রমসহ বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি উদঘাটন এবং এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের দায় নির্ধারণ।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটালব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) গত ২৯ সেপ্টেম্বর একনেকের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে আগের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সফল না হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সফটওয়্যারের দুর্বলতার কারণে অতীতে নিরাপত্তা বিঘ্ন ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সব ডেটাবেজ ও তথ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে রাখা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নতুন প্রকল্পের ৮৪ শতাংশ ব্যয় আইসিটি ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য রাখা হয়েছে। অতীতে যেসব সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ ক্রয়প্রক্রিয়ায় কালোতালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আগের প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে কি না— তাও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
নতুন এফএসএসপি-২ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এতে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের ঋণও রয়েছে। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০৩১ সালের জুনে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার কথা। এর আওতায় তদারকি সক্ষমতা ও আইসিটি অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরামর্শক সেবা গ্রহণ, আর্থিক খাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।



