বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ চূড়ান্ত হতে ‘কয়েক মাস’ লাগবে

ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তর। ছবি: রয়টার্স
আর্থিক খাতের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার চাইছে বাংলাদেশ সরকার। এই ঋণ পেতে যে সময় লাগবে, তা স্পষ্ট হলো অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, এই ১০ বিলিয়ন ডলার পেতে আলোচনা চলছে, যা আরও কয়েক মাস ধরে চলবে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে এখন ব্যাংককে রয়েছেন তিনি।
জ্বালানি খাতে বাড়তি ভর্তুকির ব্যয় মেটানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে মোট ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চায় সরকার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের কাছে চাওয়া হচ্ছে ১০ বিলিয়ন ডলার।
অর্থমন্ত্রী এক দিন আগে বলেছিলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ‘কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক' চূড়ান্ত করবে সরকার। এর মাধ্যমে আগামী তিন বছরে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতার ক্ষেত্র ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে আমির খসরু বললেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’
আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় ও সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা ও বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের নেওয়া নীতির সঙ্গে সংস্থাটি একমত।
তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।
‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত,’ বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানালেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে।
তিনি বলেছেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে এবং বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।




