বৈদ্যুতিক যানবাহনে শুল্ক-কর ছাড়

দেশে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক ও কর অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নির্দিষ্ট শর্তে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি (সিডি), রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি), সম্পূরক শুল্ক (এসডি), আগাম কর (এটি) এবং অগ্রিম আয়কর (এআইটি) থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সুবিধা পাবে এইচএস কোড ৮৭০২.৪০.০০-এর আওতায় ন্যূনতম ড্রাইভারসহ ১৭ আসনবিশিষ্ট ইলেকট্রিক বাস এবং এইচএস কোড ৮৭০৪.৬০.০০-এর আওতায় পাঁচ টন বা তার বেশি পেলোড ক্ষমতার ইলেকট্রিক ট্রাক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর অব্যাহতির সুবিধা পেতে আমদানীকৃত যানবাহন সম্পূর্ণ নতুন (ব্র্যান্ড নিউ) হতে হবে। রিকন্ডিশন্ড যানবাহন এ সুবিধার আওতায় আসবে না। বিআরটিএ বা অন্য কোনো উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মান পূরণ করতে হবে, অথবা রপ্তানিকারক দেশের টাইপ অ্যাপ্রুভাল অথরিটির সনদ থাকতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাটারি প্রতিস্থাপন ছাড়া কমপক্ষে সাত বছর বা তিন লাখ কিলোমিটার চলাচলের ওয়ারেন্টি থাকতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২১ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে পরিবহন খাতে জ্বালানি আমদানির চাপ অনেক বেশি। ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক চালু হলে দীর্ঘমেয়াদে ডিজেলনির্ভরতা কমবে এবং নগর এলাকায় বায়ুদূষণও হ্রাস পাবে।’
মোস্তফা আল মাহমুদ বলেছেন, শুধু শুল্ক অব্যাহতি দিলেই হবে না, চার্জিং অবকাঠামো ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনায়ও দ্রুত বিনিয়োগ প্রয়োজন। অন্যথায় বাণিজ্যিকভাবে এ খাত সম্প্রসারণ কঠিন হবে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স অ্যানালাইসিসের প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এখনো পরিবহন খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক চালুর মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থায় যাওয়া সম্ভব।’
তবে শফিকুল আলম সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যুতের উৎস যদি মূলত গ্যাস বা কয়লাভিত্তিক থাকে, তাহলে পরিবেশগত সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনও সমানভাবে বাড়াতে হবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশে বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক যানবাহনের বাজার খুবই সীমিত। শুল্ক-কর অব্যাহতির ফলে আমদানিকারকদের আগ্রহ বাড়তে পারে। তবে মাত্র এক মাসের জন্য সুবিধা কার্যকর থাকায় অনেকেই এটিকে পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
কাস্টমস আইন ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর আওতায় এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।






