কলায় সর্বোচ্চ আমনে সর্বনিম্ন
- শ্রমিকের এক দিনের শ্রমের বিপরীতে ফসলের মূল্য

সংগৃহীত ছবি
দেশে মৌসুমি বা অস্থায়ী ফসল চাষাবাদে সবচেয়ে বেশি আয় ও উৎপাদনশীলতা দেখা গেছে কলা চাষে, আর সবচেয়ে কম আয় মেলে স্থানীয় বোনা আমন ধানে। অন্যদিকে বিভাগীয় হিসাবে একজন কৃষকের এক দিনের উৎপাদিত ফসলের আয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রংপুর বিভাগ এবং সবচেয়ে পিছিয়ে আছে ঢাকা বিভাগ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘টেকসই কৃষি পরিসংখ্যান’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ‘খাদ্য উৎপাদকের আয় ও উৎপাদনশীলতা’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেছেন, মৌসুমি ফসল নামে পরিচিত অস্থায়ী ফসলগুলো দেশের কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড গঠন করে। এগুলো একটি মাত্র চাষের মৌসুমের মধ্যেই তাদের জীবনচক্র সম্পন্ন করে এবং প্রতি বছর আবার রোপণ করতে হয়। এই অস্থায়ী ফসলগুলো দেশ জুড়ে লাখ লাখ ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের জন্য আয়ের প্রধান উৎস এবং খাদ্য নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। অস্থায়ী ফসল উৎপাদনকারীদের শ্রম একক প্রতি উৎপাদন এবং গড় আয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
তিনি জানালেন, নির্বাচিত অস্থায়ী ফসলগুলোর শ্রম দিয়ে এক দিনের উৎপাদনশীলতা দেখানো হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এটি অস্থায়ী ফসলের প্রকারভেদে শ্রম-একক প্রতি উৎপাদন পরিমাপ করে। শ্রম-দিন প্রতি উচ্চ উৎপাদনশীলতা নির্দেশ করে। এতে দেখা যায়, একটি ফসলে বিনিয়োগ করা প্রতিটি একক শ্রমের বিনিময়ে যথেষ্ট অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৌসুমি ফসলের আয়ের চিত্র হলো— প্রতিজন কৃষকের এক দিনের শ্রমের বিনিময়ে যে ফসল উৎপাদন হয়, তা বিক্রি করলে আয় হয় কলা চাষে ৮০৯১ টাকা। এ ছাড়া আলু চাষে ৪৫৯৫, পেঁয়াজ চাষে ৪৪০৫, স্থানীয় রোরো ধান চাষে ৩৬৫৯ এবং মরিচ চাষে ৩৪৭০ টাকা। আরও আছে, হাইব্রিড বোরো ধানে ২৫৩৯, পাটে ২৪২৭, আমন ধানে ১৭৮৮ এবং স্থানীয় বোনা আমন ধান চাষে লাভ হয় ১৩৮৫ টাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মৌসুমি অস্থায়ী ফসল চাষ করে জাতীয়ভাবে একজন কৃষক শ্রমের বিনিময়ে এক দিনের উৎপাদিত ফসলে আয় করে ২৬৬৪ টাকা। এর মধ্যে গ্রামে আয় হয় ২৬৯০ এবং শহরে ২৪৭২ টাকা। বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ আয় হয় রংপুর বিভাগে ৪০৯৩ টাকা। আর সর্বনিম্ন আয় হয় ঢাকা বিভাগে ১৪৭৩ টাকা। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৫২১, বরিশালে ২২৭১, খুলনায় ৩০১৫, ময়মনসিংহে ৩২৭৩, রাজশাহীতে ২৯২১ এবং সিলেট বিভাগে আয় হয় ২১১৪ টাকা।
বিবিএস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এসডিজি সূচক ২, ৩, ১ (শ্রম একক প্রতি উৎপাদন) এবং ২, ৩, ২ (ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদকদের গড় আয়)-এর জন্য জাতীয় ভিত্তিরেখা স্থাপনে এই জরিপটি পরিচালনা করে। দেশের আটটি বিভাগ এবং পাঁচটি কৃষি খাত অস্থায়ী ফসল, স্থায়ী ফসল, বনায়ন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য চাষ মিলে ১২ হাজার ৮৭৯টি পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই জরিপটি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ৩-এর জন্য জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক প্রাক্কলন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে এলাকা ও বিভাগ অনুযায়ী অস্থায়ী ফসল উৎপাদনকারীদের গড় বার্ষিক নিট আয় তুলে ধরা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে গড় বার্ষিক নিট আয় ৯৮৯৪ টাকা। এলাকাভিত্তিক, গ্রামীণ এলাকার অস্থায়ী ফসল উৎপাদনকারী গড় বার্ষিক আয় ১০০৬০ এবং শহরাঞ্চলের উৎপাদনকারীরা ৮৬৪২ টাকা আয় করেন।





