আস্থার সংকটে বিনিয়োগকারীরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারাবাহিকতা থামছেই না। একের পর এক কার্যদিবসে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে তীব্র উদ্বেগ। একই সঙ্গে কাঙ্ক্ষিত লেনদেন না হওয়ায় বাজারে সৃষ্টি হয়েছে আস্থার সংকট। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার দেশের প্রধান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)— উভয় শেয়ারবাজারেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি সূচকের পতন ঘটেছে। সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইতে এদিন সকালে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে সূচকের উত্থান হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হয় বিক্রির চাপ, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৪৯টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৩০৯টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
শেয়ারের ক্যাটাগরিভিত্তিক চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভালো মানের বা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও কমেছে ১৬৩টির। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে ১২টির দাম বেড়েছে এবং ৫৮টির কমেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ১১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ৮৯টি। এ ছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে মাত্র ১টির দাম বেড়েছে এবং ২৯টির কমেছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬১৪ পয়েন্টে নেমেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১২২ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪৬৭ কোটি ১ লাখ টাকা।
রবিবার ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল সায়হাম টেক্সটাইল, যার ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ২১ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে দ্বিতীয় স্থানে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম কটন। শীর্ষ লেনদেনকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, লাভেলো আইসক্রিম, বেক্সিমকো, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টির দাম বেড়েছে, ১১২টির কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। সিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ১১ কোটি ১ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২১ কোটি ২৩ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কম।
সম্প্রতি ডিএসইতে কয়েক দফায় বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। গত ২৫ আগস্ট লেনদেন কমে ৫০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে আসে এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা পাঁচ কার্যদিবস বাজারে ব্যাপক দরপতন অব্যাহত ছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি, তারল্য সংকট এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ রেখে সবাই অপেক্ষার নীতি অনুসরণ করছেন। ফলে বিক্রেতার চাপ বাড়ায় এই ক্রমাগত দরপতন ঘটছে।







