কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স
এফডিআর নিয়ে অনিশ্চয়তা বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসির বীমা দাবি পরিশোধ এবং ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটির কিছু বীমা দাবি আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়নি। একই সঙ্গে তিনটি ব্যাংকে রাখা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের এফডিআর বিনিয়োগের পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া এবং আগের শর্তে তা আদায় করা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন নিরীক্ষক। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে এসব বিষয়।
কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের বকেয়া বীমা দাবি পর্যালোচনা করে কিছু দাবি নির্ধারিত সময়ের পরও অনিষ্পন্ন থাকার বিষয়টি পেয়েছেন নিরীক্ষক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বীমা আইন, ২০১০-এর ৭২ ধারা অনুযায়ী জরিপ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বীমা দাবি নিষ্পত্তি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু নিরীক্ষায় চিহ্নিত কিছু ক্ষেত্রে ওই সময়সীমা পরিপালন করেনি কোম্পানিটি।
বীমা দাবির পাশাপাশি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের ব্যাংকে রাখা এফডিআর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কোম্পানিটির সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকে থাকা এফডিআর বিনিয়োগের বিষয়টি আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর আওতায় এসব ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এফডিআরের মেয়াদপূর্তিতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে। বাকি মূলধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন এবং ধাপে ধাপে উত্তোলনের ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানতকারীদের মুনাফার হার ৪ শতাংশে নেমে আসার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়া এখন নির্ভর করছে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের পরিবর্তে একটি আইনি ও নিয়ন্ত্রিত রেজল্যুশন কাঠামোর ওপর।
কোম্পানিটির স্থায়ী সম্পদের হিসাব সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও গুরুতর দুর্বলতা পেয়েছেন নিরীক্ষক। কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স স্থায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ রেজিস্টার সংরক্ষণ করেনি। ওই রেজিস্টারে সম্পদের বিবরণ, শনাক্তকরণ নম্বর, অবস্থান, পরিমাণ, ক্রয়মূল্য, সঞ্চিত অবচয় এবং অবচয়-পরবর্তী মূল্য থাকার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ তা পাওয়া যায়নি। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সম্পদের নিয়মিত শারীরিক যাচাই যথাযথভাবে সম্পন্ন ও নথিভুক্তও করেনি। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে আর্থিক বিবরণীতে দেখানো সম্পদের অস্তিত্ব, পূর্ণতা, মালিকানা ও মূল্য যাচাই করতে পারেননি নিরীক্ষক।
কোম্পানিটির শ্রমিকের মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল নিয়েও অডিট আপত্তি রয়েছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি হিসাবভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে আইন অনুযায়ী পৃথক তহবিল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার ব্যবস্থাও করা হয়নি।
কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্সের প্রভিডেন্ট ও গ্র্যাচুয়েটি ফান্ড নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন নিরীক্ষক। এ দুটি তহবিল গত দুই বছর নিরীক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী এসব তহবিলের বার্ষিক নিরীক্ষার প্রয়োজন থাকলেও কোম্পানিটির ক্ষেত্রে তা পরিপালন হয়নি। এসব বিষয়ে জানতে কোম্পানি সচিব আতাউর রহমানকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।



