শেয়ারবাজারে টানা দরপতন, নিঃস্ব হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে দরপতন অব্যাহত রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। আজ মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসেও কমেছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম। ঢাকা ও চট্টগ্রাম দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই (সিএসই) দেখা যায় এই দরপতন।
বিএনপি সরকার গঠন করার আগে শেয়ারবাজারের শৃঙ্খলা ফেরানো ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন অর্থমন্ত্রী বাজার পুনরুজ্জীবনে একাধিক ইতিবাচক আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হয় এবং নতুন বাজেটেও পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে বেশ কিছু ব্যবসাবান্ধব ও ইতিবাচক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এত সব আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ ও সংস্কার সত্ত্বেও টানা পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না শেয়ারবাজার।
ক্রমাগত এই দরপতনে প্রতিদিন বাজার মূলধন কমছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সঞ্চিত মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। নীতিগত সহায়তার পরও বাজারের এই লাগাতার মন্দাভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে নামিয়ে এনেছে।
আজ দিনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও দুপুর ১২টার পর বিমা খাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া দরপতন, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে বিনিয়োগকারীদের আশার প্রতিফলন ঘটেনি।
এদিন ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান, বিপরীতে ২৬৬টির দাম কমেছে এবং ৪৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে ভালো বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ৪৬টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, ১২৯টির কমেছে এবং ২৩টির অপরিবর্তিত ছিল। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৭টি কোম্পানির দাম বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২টির অপরিবর্তিত ছিল। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ২৪টি কোম্পানির দাম বাড়ার বিপরীতে ৭২টির কমেছে এবং ২২টির অপরিবর্তিত ছিল। এ ছাড়া ১০টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে, ১২টির কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত ছিল।
দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের টানা পতনে সূচকটি মোট ১৩০ পয়েন্ট হারাল। ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে নেমেছে।
সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। মোট ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের ৫২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের ৫১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা এনভয় টেক্সটাইলের ২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল শমরিতা হাসপাতাল, মালেক স্পিনিং, বেক্সিমকো, রানার অটোমোবাইল, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, সায়হাম টেক্সটাইল এবং শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্যদিকে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট কমেছে। বাজারটিতে অংশ নেওয়া ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির দাম বেড়েছে, ১৩৪টির কমেছে এবং ৩০টির অপরিবর্তিত ছিল। লেনদেন হয়েছে ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১০৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার চেয়ে কম।








