টানা তিন দিন দরপতন, তলানিতে সূচক

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা এখনো অব্যাহত। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি তলানিতে নেমেছে মূল্যসূচকও। গত সপ্তাহের শেষ দুই দিনের ধারাবাহিকতায় এ নিয়ে টানা তিন কার্যদিবস পতনের মুখ দেখল শেয়ারবাজার। তবে সূচক কমলেও ইতিবাচক দিক হলো, এদিন দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
আজ লেনদেনের শুরুটা ছিল বেশ আশাজাগানিয়া। সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়েই লেনদেন শুরু হয় ডিএসইতে এবং একপর্যায়ে প্রধান সূচক ৩৩ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে টানা দরপতন থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে প্রথম দেড় ঘণ্টা পার হতেই বাজারের চিত্র বদলে যেতে শুরু করে। দর বৃদ্ধির তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দর পতনের তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। দিনশেষে ভালো-মন্দ সব খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দাম কমে যায়।
ডিএসইতে আজ সব খাত মিলিয়ে ১০২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ২৪৭টি কোম্পানি এবং অপরিবর্তিত ৪১টির দাম। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির মধ্যে ৫৯টির দাম বেড়েছে, অন্যদিকে কমেছে ১২৫টির। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের ১০টি কোম্পানির দর বাড়লেও কমেছে ৬২টির। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ৩৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৬০টির। এ ছাড়া ২৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের দরপতন হয়েছে এবং মাত্র ৬টির দাম বেড়েছে।
দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ‘ডিএসইএক্স’ ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে। একইভাবে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ‘ডিএসই-৩০’ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৪ পয়েন্টে এবং ‘ডিএসই শরিয়াহ’ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭১ পয়েন্টে নেমেছে।
সূচক কমলেও লেনদেনের গতি অবশ্য বেশ ভালো ছিল। ডিএসইতে আজ ১ হাজার ১৩০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২০৫ কোটি ১০ লাখ টাকা বেশি। এই লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ৩১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হওয়া মালেক স্পিনিংয়ের। তালিকায় এর পরেই ছিল বেক্সিমকো ও শমরিতা হাসপাতাল। এ ছাড়া সেনা ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম কটন, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, সায়হাম টেক্সটাইল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স লেনদেনের শীর্ষ দশে স্থান করে নেয়।
অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ‘সিএএসপিআই’ ৬৮ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৭৪টির এবং ১১২টির দাম কমেছে। সিএসইতে আজ ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গত কার্যদিবসের ৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার তুলনায় কিছুটা বেশি।







