শেয়ারবাজারে ছন্দপতন

ছবি: এআই
টানা তিন সপ্তাহ চাঙ্গা থাকার পর দেশের শেয়ারবাজারে ঘটেছে ছন্দপতন। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই সূচকের পতনে বাজারে মন্দাভাব দেখা যায়। দরবৃদ্ধির তুলনায় দর হারানোর পাল্লা ভারী হওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি বাজার মূলধন কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা তিন সপ্তাহের ইতিবাচক ধারার পর এই ছন্দপতনের নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত মার্জিন রুল সংশোধন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে অস্পষ্টতা তৈরি হওয়া এবং বিমা খাতের শেয়ারকে মার্জিন সুবিধার বাইরে রাখার আশঙ্কায় বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা যোগ হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নেন বিনিয়োগকারীরা। অন্যদিকে টানা দরবৃদ্ধির পর সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ালে সূচকে এই বড় পতন ঘটে।
ডিএসইর সাপ্তাহিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ১২০টির দর বেড়েছে, যার বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৪০টি প্রতিষ্ঠান এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির শেয়ার দর। এই ছন্দপতনের কারণে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১ হাজার ২৭০ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৯ হাজার ৬১৩ কোটি টাকা। অথচ এর আগের তিন সপ্তাহের টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারায় বাজার মূলধনে যুক্ত হয়েছিল ১৮ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা।
বাজারের মূল সূচকগুলোতেও এই ছন্দপতনের স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬.০৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৮০৪ পয়েন্টে, যেখানে আগের তিন সপ্তাহে সূচকটি ২৪৭.৫৪ পয়েন্ট বেড়েছিল। পাশাপাশি শরিয়াহ ভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ২৩.৮০ পয়েন্ট এবং বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩৪.৯১ পয়েন্ট কমেছে।
সূচকের পাশাপাশি কমেছে লেনদেনের গতিও। গত সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের দৈনিক গড় লেনদেনের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম।
গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়ন এবং ব্যাংক খাতে। টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে ছিল মালেক স্পিনিং, টেকনো ড্রাগস এবং আইটি কনসালট্যান্টস। অন্যদিকে সাধারণ বিমা, ভ্রমণ ও অবকাশ এবং জীবন বিমা খাতে সবচেয়ে বেশি দরপতন ঘটেছে।




