ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ
স্বামী স্ত্রী শ্যালকের শেয়ার কারসাজি
- বিএসইসির ৭৩ লাখ টাকা জরিমানা

সংগৃহীত ছবি
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে কারসাজির অভিযোগে তিন বিনিয়োগকারীকে মোট ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কৃত্রিমভাবে শেয়ার লেনদেন দেখানো এবং ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ।
জরিমানার আওতায় আসা তিন বিনিয়োগকারী হলেন— আবু তাহের শিকদার, উম্মা সালমা নিপা ও এস এম শাহেদ শাকিল। সবাই একই পরিবারের সদস্য (স্বামী, স্ত্রী এবং স্ত্রীর ভাই/শ্যালক)।
কমিশনের তদন্তে ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তাদের বিভিন্ন বিও হিসাব ও একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের শেয়ারে সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। ওই সময়ে তিন বিনিয়োগকারী সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ৫১ লাখ ২২ হাজার ৬৯৩টি শেয়ার কিনেছেন। এসব শেয়ার কিনতে ব্যয় হয়েছে ২৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ৩৭০ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারগুলোর গড় ক্রয়মূল্য ছিল ৫৩ টাকা ৯৩ পয়সা। অন্যদিকে তারা ৪৪ লাখ ৬ হাজার ১০৯টি শেয়ার বিক্রি করেছেন। এসব শেয়ার বিক্রি করে পেয়েছেন ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা ১০ পয়সা। বিক্রি করা শেয়ারের গড় মূল্য ছিল ৫৫ টাকা ৪৯ পয়সা। তদন্তে বিক্রি করা শেয়ারের ক্রয়মূল্যের বিপরীতে তাদের প্রকৃত মূলধনি মুনাফা ২ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা ৮ পয়সা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে ২৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের শেয়ারের সমাপনী দর ৮৩ টাকা ২০ পয়সা ধরে তাদের কাছে থাকা ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৬০টি শেয়ারে অবাস্তবায়িত মুনাফা দাঁড়ায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৭ টাকা ৪৮ পয়সা। ফলে প্রকৃত ও সম্ভাব্য মুনাফা মিলিয়ে তাদের মোট লাভের পরিমাণ ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি।
তদন্তে মো. আবু তাহের শিকদারের নামে আইএফআইসি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস, এমটিবি সিকিউরিটিজ ও কাজী ইক্যুইটিজে চারটি হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। এস এম শাহেদ শাকিল সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস এবং উম্মা সালমা নিপা অ্যারেনা সিকিউরিটিজের মাধ্যমে লেনদেন করেন।
শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ব্যবসার সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি বিবেচনা করেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে শেয়ার কেনা হয়েছিল। মো. আবু তাহের শিকদার জানিয়েছেন, তিনি একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি লেনদেন করতেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও আত্মীয়রা মোবাইল ফোনে নির্দেশ দিয়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। ফলে ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া অর্ডার স্বাভাবিকভাবেই একে অন্যের সঙ্গে মিলে যায়। তবে এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হিসাব থেকে একই সময়ে বিপরীতমুখী অর্ডার দেওয়া এবং ধারাবাহিকভাবে এসব লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দর বাড়ানোর ঘটনা দুর্ঘটনাবশত হওয়ার সুযোগ নেই। এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(ii) ও ১৭(ই)(v) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। মো. আবু তাহের শিকদারকে ৫৩ লাখ ২৫ হাজার, উম্মা সালমা নিপাকে ৫ লাখ এবং এস এম শাহেদ শাকিলকে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃত্রিম লেনদেন দেখানোর দায়ে তিনজনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।



