কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুতে জোর, সহযোগিতার আশ্বাস বিএসইসির

ছবি: আগামীর সময়
দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এরই মধ্যে এ বাজারের আইনি ও কারিগরি কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন বাজার তৈরির প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে সিএসইর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ডাইভারসিফিকেশন ফর রেজিলিয়েন্স: দ্য রোল অব কমোডিটি ডেরিভেটিভস ইন এ মডার্ন ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিও’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশ্বাস দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান।
মাসুদ খান বলেছেন, শেয়ারবাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে নতুন পণ্য আনার কাজ গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ইটিএফ ও আরইআইটির মতো পণ্য রয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারের ডাইভারসিফিকেশনের জন্য সিএসই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির প্রধান দায়িত্ব হলো ন্যায্য লেনদেন নিশ্চিত করা, কারসাজি ঠেকানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া। বাংলাদেশের বাজারে প্রায় ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী খুচরা বা ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী হওয়ায় তাদের সুরক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শেয়ারের যথাযথ মূল্যায়ন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই’— উল্লেখ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তিনি জানান, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন ও সেলফ রেগুলেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়াতে দেশীয়, বহুজাতিক ও বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে আইপিও ও সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইব্রিড পদ্ধতিতেও কোম্পানি তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাজারের গভীরতা বাড়াতে করপোরেট বন্ড এবং নতুন পণ্য হিসেবে ইটিএফ ও আরইআইটির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মাজুমদার জানালেন, শেয়ারবাজারে গভর্ন্যান্স ও সিস্টেমগত সমস্যার কারণে সক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমেছে। এই সংকট কাটাতে পণ্য বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা জরুরি। বন্ড, টি-বিল ও ফান্ড থাকলেও বিভিন্ন কারণে এগুলো যথেষ্ট ট্রেডেবল হয়ে ওঠেনি। ফলে দেশি, বিদেশি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন পণ্য দরকার।
তিনি বললেন, ডেরিভেটিভস মার্কেটের আইনি ও কারিগরি কাঠামো তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন বাজার তৈরির প্রস্তুতি চলছে। ব্রোকারদের জন্য মক ট্রেডিং ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে কমোডিটি মার্কেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতেও এ বাজার চালুর সময় এখনই। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিএসইসি সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বলেছেন, বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে ইকুইটি, ফিক্সড ইনকাম, কমোডিটি, ডেরিভেটিভস ও কারেন্সিসহ বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন। কমোডিটি ও ডেরিভেটিভস নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি করপোরেট বন্ডেরও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (আরইআইটি) চালু হলে নতুন অর্থ বাজারে আসবে। পেনশন ফান্ড, বিমা ফান্ড ও মিউচুয়াল ফান্ড কার্যকর হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়বে এবং বাজারের গভীরতা ও স্থিতিস্থাপকতা শক্তিশালী হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিএসইর জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের মোহাম্মদ মর্তুজা আলম। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন এম সাইফুর রহমান মাজুমদার। আলোচক হিসেবে ছিলেন বি রিচ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম, এফসিএ; লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজ পিএলসির সিইও ও পরিচালক খন্দকার সাফফাত রেজা এবং সিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মাদ মাহাদি হাসান। এ ছাড়া সিএসইর পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সাইফুল ইসলাম, ড. মাহমুদ হাসান, এম জুলফিকার হোসেইন, নাজনিন সুলতানা, ফরিদা ইয়াসমিন, মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম ও মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ সিএসইর ট্রেক প্রতিনিধিরা এবং বিনিয়োগকারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



