মার্জিন রুল সংশোধনের গুঞ্জনে বীমা খাতে বড় ধস

ছবি: এআই
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদার শীর্ষে ছিল বীমা খাতের শেয়ারগুলো। দরবৃদ্ধির দৌড়ে টানা এগিয়ে থাকা এই খাতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের ধস নেমেছে। প্রস্তাবিত মার্জিন রুল সংশোধনীতে বীমা খাতকে মার্জিন ঋণের সুবিধার বাইরে রাখা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়, যার জের ধরে পুরো শেয়ারবাজারেই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
২৩ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহের বাজার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বীমা খাতের ওপর তৈরি হওয়া নীতিগত অনিশ্চয়তা পুরো শেয়ারবাজারের গতিপথ বদলে দিয়েছে। নতুন নীতিমালায় অধিকাংশ বীমা কোম্পানি মার্জিন ঋণ সুবিধার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লাগে এবং তাদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে কমে যায়। নিজেদের পুঁজি রক্ষায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বীমা খাতের শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সপ্তাহের শুরু থেকেই বাজারে একযোগে বড় ধরনের বিক্রয় চাপ তৈরি হয়।
এই অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাবে সমাপ্ত সপ্তাহে সাধারণ বীমা খাত ৭.৪ শতাংশ এবং জীবন বীমা খাত ৫.৪ শতাংশ দর হারিয়ে ডিএসইর শীর্ষ লোকসানি খাতে পরিণত হয়। একই সঙ্গে সপ্তাহের শীর্ষ দর হারানো শেয়ারের তালিকার প্রায় পুরোটাই দখল করে নেয় বীমা খাতের কোম্পানিগুলো। যার মধ্যে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স এবং পিপলস ইন্স্যুরেন্সের দর ১১ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বীমা খাতের চাঙ্গা ভাব প্রধান সূচককে চাঙ্গা রাখলেও, গত সপ্তাহে এই খাতের ধস পুরো বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বীমা শেয়ারের দরপতন ও নীতিগত বিভ্রান্তির কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৯৬ পয়েন্ট বা ১.৬ শতাংশ নিচে নেমে আসে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা দরবৃদ্ধির পর বীমা খাতে বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ এমনিতেই মুনাফা তুলে নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। ঠিক সেই সময়ে মার্জিন রুলের এই অস্পষ্টতা বাজারে প্যানিক সেল বা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রির পরিবেশ তৈরি করে। বীমা খাতের এই ধস আর নীতিগত স্পষ্টতা না আসা পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বড় কোনো বিনিয়োগ না করে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কৌশল বেছে নিয়েছেন।




