পোশাক শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশনে আনার উদ্যোগ
- বয়স কমিয়ে ৫৫ করার দাবি বিজিএমইএর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে; একই সঙ্গে স্কিমে আগ্রহ বাড়াতে প্রথম দুই বছর বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পেনশন লাভের বয়সসীমা ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ বছরে নামিয়ে আনার যুগান্তকারী প্রস্তাব তুলেছে তৈরি পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে পোশাক খাতের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান বলেছেন, জনগণের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে। পোশাক খাতের সব শ্রমিককে দ্রুত এ ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। এটি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেছেন, ‘স্কিমটিকে শ্রমিকদের কাছে আরও জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম দুই বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর করা হলে তারা আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হবেন।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে। বার্ধক্যে নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষার বড় অবলম্বন হিসেবে এটি কাজ করবে।’
তিনি জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে এ স্কিমে চাঁদা দিতে পারবেন। ৬০ বছর পূর্ণ হলে জমা করা অর্থ পেনশন হিসেবে ফেরত পাবেন। কোনো গ্রাহক ৬০ বছর বয়সের আগে মারা গেলে তার মনোনীত ব্যক্তি জমা করা অর্থ মুনাফাসহ পাবেন। আয় কমে গেলে নিয়মিত চাঁদা দিতে সমস্যা হলে চাঁদার পরিমাণ কমানো-বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।
সুরাতুজ্জামান বললেন, স্কিমে জমা হওয়া অর্থ যথাসময়ে গ্রাহকদেরই ফেরত দেওয়া হবে। এ ছাড়া পেনশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বললেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬-এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক রয়েছে— এমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দ্রুত হিসাব খোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেছেন, তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্ত করা এবং পরে এর ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকারের এ উদ্যোগ সময়োপযোগী, যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয়।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বললেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আকর্ষণীয় মুনাফার হার শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই পোশাক খাতের সব শ্রমিককে এ স্কিমের আওতায় আনতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।





