৪০০ কোটি টাকা পাওনার চাপ গ্রিন ডেল্টায়

সংগৃহীত ছবি
তালিকাভুক্ত সাধারণ বীমা কোম্পানি গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক বিবরণীতে একাধিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সাল শেষে বীমা ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে কোম্পানির পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে কোম্পানি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত স্বল্পমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৩২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। পাশাপাশি বিনিয়োগ ওঠানামা তহবিলে ৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার আনরিয়েলাইজড লোকসান রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়গুলোকে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন নিরীক্ষক।
প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছে কোম্পানির মোট পাওনা ৩৯৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু বিদেশি পুনঃবীমাকারী ও সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) কাছেই পাওনা ৩৯৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের শেষে এই পাওনা ছিল ৩৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে বকেয়া বেড়েছে ১১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট পাওনার মধ্যে সহ-বীমার প্রিমিয়াম বাবদ ৮১ লাখ ৬২ হাজার এবং দাবি বাবদ ২৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা রয়েছে।
অন্যদিকে কোম্পানিটির নিজস্ব স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ২৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যমুনা, ঢাকা ও মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এবং অন্যান্য মেয়াদি ঋণ মিলিয়ে এ দায় তৈরি হয়েছে। গ্রিন ডেল্টার নিজস্ব ঋণের সঙ্গে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ যোগ করলে সমন্বিত স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এর বাইরে কোম্পানির ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার বকেয়া প্রিমিয়াম রয়েছে। এ বকেয়া মূলত সামুদ্রিক ও বিমান বীমা ব্যবসার কিস্তি বাবদ। এর মধ্যে সামুদ্রিক বীমায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ এবং বিমান বীমায় ৩৯ লাখ টাকার বকেয়া রয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সাল শেষে গ্রিন ডেল্টার মোট বিনিয়োগ ছিল ৪০৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এই অর্থ সরকারি বন্ড, ট্রেজারি বিল, বিভিন্ন বন্ড, তালিকাভুক্ত শেয়ার, এফডিআর, অনিবন্ধিত শেয়ার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ হিসেবে রয়েছে। শুধু তালিকাভুক্ত শেয়ারেই বিনিয়োগ ছিল ১৬২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
বিনিয়োগ ঝুঁকির বিষয়টি নিরীক্ষকের নজরে এসেছে। ২০২৫ সালের বিবরণীতে কোম্পানির বিনিয়োগ ওঠানামা তহবিলের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই সময়ে এ তহবিলে আনরিয়েলাইজড লোকসান দেখানো হয়েছে ৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। নিরীক্ষক একে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রিন ডেল্টা তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত বিভিন্ন সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করেছে। এসব মূল্যায়নে ব্যবস্থাপনার বিচার-বিবেচনার প্রয়োজন হয় এবং বাজারমূল্যের বড় পতন হলে তা আয় ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া কোম্পানির সম্পত্তি, প্ল্যান্ট ও সরঞ্জামের মূল্যও নিরীক্ষকের নজরদারিতে ছিল। ২০২৫ সালের শেষে এসব সম্পদের মূল্য ছিল ১২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এদিকে, বছর শেষে বকেয়া বীমা দাবির আনুমানিক দায় দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের শেষে গ্রিন ডেল্টার সমন্বিত মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সম্পদের বিপরীতে সমন্বিত স্বল্পমেয়াদি ঋণ ৩২৭ কোটি ৫৩ লাখ এবং পাওনা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ।
এসব বিষয়ে জানতে কোম্পানির এমডি ও সিইও ফারজানাহ চৌধুরী এবং সচিব মো. ওলিউল্লাহ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।



