ফিরছে মাসিক ভ্যাট রিটার্ন
- সংশোধিত আইনের খসড়া অনুমোদন মন্ত্রিপরিষদ সভায়

সংগৃহীত ছবি
রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি মোকাবিলায় আবারও মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়মে ফিরছে। এজন্য গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করা হবে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।
এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, গত বাজেটে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের কর মেয়াদ এক মাসের পরিবর্তে তিন মাস করা হয়। এতে বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে সরকারের কোষাগারে যে পরিমাণ রাজস্ব জমা হওয়ার কথা, তার বড় অংশ আটকে থাকছে। এতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি বাড়ছে এবং সরকারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৯ হাজার ১৬১ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। একই সময়ে গত অর্থবছরের তুলনায়ও রাজস্ব আদায় কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়ের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আগের নিয়মে ফেরার উদ্যোগ নেয় সরকার।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা অনুযায়ী, বিশেষ কারণ ছাড়া নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি কর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে সমুদয় কর পরিশোধসহ ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। আগে কর মেয়াদ ছিল এক মাস। তবে গত বাজেটে আইন সংশোধন করে কর মেয়াদ তিন মাস করা হয়। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন মাসের কর একসঙ্গে পরিশোধ ও রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায় কমে গেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের মোট রাজস্ব আদায়ের প্রায় ৩৭ শতাংশ আসে ভ্যাট খাত থেকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতি মাসে ভ্যাট বিভাগ থেকে গড়ে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। অথচ গত মাসে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে মাত্র ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
তাদের ভাষ্য, বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায়যোগ্য বিপুল পরিমাণ ভ্যাট সময়মতো সরকারি কোষাগারে জমা না হওয়ায় রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এতে সরকারের চলতি ব্যয় মেটানোসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ বাড়ছে।
এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১০৭টি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ভ্যাট আদায়ের প্রায় ৫৬ শতাংশ আসে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত মাসে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭টি ভ্যাট রিটার্ন জমা দিয়েছে। বাকি ৪০টি প্রতিষ্ঠান এখনো রিটার্ন জমা দেয়নি। বর্তমান আইন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কর পরিশোধসহ রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায়যোগ্য রাজস্বের একটি বড় অংশ আপাতত অনাদায়ি থাকছে।
এনবিআর সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্নের কারণে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আদায়যোগ্য রাজস্বের একটি বড় অংশ সময়মতো সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না। এ কারণে মাসিক রিটার্ন দাখিলের বিধান পুনর্বহালে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছিল। সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পেয়েছে। আশা করছি, দ্রুত এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। এতে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবাহ বাড়বে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আসবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।’



