দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় যাচ্ছে নবম পে স্কেলের প্রস্তাব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের প্রস্তাবিত সুপারিশ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উচ্চপর্যায়ের কমিটির এক সদস্য জানান, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা সম্ভব না হলে পরবর্তী বৈঠকে তা পেশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বললেন, ‘কমিটির সুপারিশ আগের বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু কারিগরি বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সোমবার অতিরিক্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়ার পর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।’
রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটি চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। ফলে অষ্টম পে-স্কেলের মতো নবম পে-স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ব্যাংক হিসাবে পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
এর আগে অষ্টম পে-স্কেল ২০১৫ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হলেও বর্ধিত বেতন কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছাতে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
বেসামরিক, সামরিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের পর কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করেছে, যা এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, ১ থেকে ১০ গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি হারে বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ওপর ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা এবং ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পে-স্কেলে বেতন পুনর্নির্ধারণের সময় এসব সুবিধাও সমন্বয় করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর বেতন ও পেনশন বাবদ সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।







