পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স
গ্রাহকের শতকোটি টাকা ফেরতে অপারগ

গ্রাহকের টাকা পরিশোধ তো দূরের কথা, খোদ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জন্য। প্রতিষ্ঠানটির লাইফ ইন্স্যুরেন্স ফান্ড ৩১৯ কোটি টাকার বেশি ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। আর্থিক এই বেহালদশার কারণে আটকে আছে গ্রাহকদের শতকোটি টাকার বীমা দাবি। সার্বিক পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে কোম্পানিটির নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান।
নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান পিনাকি অ্যান্ড কোম্পানির সিনিয়র পার্টনার পিনাকি দাস তারনিরীক্ষা প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, পদ্মা লাইফের ফান্ড ৩১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা ঋণাত্মক, যা এর ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে। বীমা আইন ২০১০-এর ৭২ ধারা অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে গ্রাহকদের দাবি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ কোম্পানিটি ২৭১ কোটি ১১ লাখ টাকার বীমা দাবি আটকে রেখেছে। এমনকি এসব অপরিশোধিত দাবির বিপরীতে সুদজনিত কোনো সঞ্চিতিও গঠন করা হয়নি, যা ওই আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক হিসাবেও ব্যাপক অস্বচ্ছতা পেয়েছেন নিরীক্ষক। আর্থিক প্রতিবেদনে সাদাকা ফান্ড (পদ্মা ওয়েলফেয়ার ফান্ড) খাতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দেখানো হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণাদির অভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান। একইভাবে ব্যাংকে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা থাকার যে দাবি করা হয়েছে, সে বিষয়েও তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে নিরীক্ষক জানিয়েছেন, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ একটি ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট সরবরাহ করেনি। তা ছাড়া তাদের ১৬২টি ব্যাংক হিসাবে দীর্ঘকাল ধরে হয়নি কোনো আর্থিক লেনদেন।
আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক হিসাবেও অস্বচ্ছতা পেয়েছেন নিরীক্ষক। সাদাকা ফান্ড খাতে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা দেখানো হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণাদির অভাবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি
আর্থিক অনিয়মের বাইরে কোম্পানিটি বেশ কিছু নিয়মনীতিরও তোয়াক্কা করেনি। ২০১৮ সালের এসআরও অনুযায়ী জীবন বীমা দায়ের অ্যাকচুয়ারিয়াল তদন্ত ও মূল্যায়ন করা হয়নি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-১২ অনুযায়ী ডেফার্ড ট্যাক্সের হিসাবও রাখেনি পদ্মা লাইফ। অন্যদিকে, চুক্তি অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি ফান্ডের বার্ষিক নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হয়নি। অথচ সংশ্লিষ্টদের গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। এতে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের পাশাপাশি পরিশোধিত অর্থের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
প্রিমিয়াম আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় কয়েক বছর ধরে কোনোরকমে টিকে আছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ২০২১ সালের পর থেকে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশও দিতে পারছে না তারা। এসব অনিয়ম ও সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব আনোয়ার জাহিদ জানিয়েছেন, তিনি পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে নতুন যোগদান করেছেন, তাই এসব বিষয়ে তিনি অবগত নন।
২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধনের
পরিমাণ ২৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির (উদ্যোক্তা/পরিচালক ছাড়া) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৮.৪৪ শতাংশ।







