বিএসটিআইয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপন
আড়াই বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি ১৫%

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে পণ্যের প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এজন্য দেশের ১০টি জেলায় আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু সেখানেও রয়েছে ধীরগতি। আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া খরচ হয়েছে ৫৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৫ শতাংশ। এমন পরিস্থিতিতে নির্ধারিত মেয়াদেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। ‘১০ জেলায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পে এ অবস্থা বিরাজ করছে। আগামী মঙ্গলবার প্রকল্পটি নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভা। সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএসটিআইর মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআইর দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৩ কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ২৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ৭৩ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের ২৩৯ কোটি ৩১ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রথম সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন জেলায় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, দরপত্র প্রক্রিয়া দেরিসহ নানা কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অগ্রগতি কম।
সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বগুড়া জেলা সদর, পাবনা সদর, যশোর সদর, কুষ্টিয়া সদর, গাজীপুর সদর, নরসিংদী সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা, দিনাজপুর সদর এবং পটুয়াখালী সদর উপজেলায়।
এর আগে গত ১০ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সর্বশেষ পিআইসি সভা। সেখানে বলা হয়েছিল পাবনা, গাজীপুর, দিনাজপুর এবং নরসিংদী জেলায় নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে হবে। ওই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, গাজীপুরে পূর্ত কাজের জন্য গত ১১ জুন ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। ঠিকাদার বিদ্যুৎ সংযোগ, পানির পাম্প, টেম্পোরারি বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ করছে। এ ছাড়া পাবনা গণপূর্ত বিভাগ পূর্ত কাজের দরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম শেষ করে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দিনাজপুর গণপূর্ত বিভাগ পূর্ত কাজের দরপত্র গত ৭ আগস্ট উন্মুক্ত করেছে। মূল্যায়ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। নরসিংদী জেলায় ৫০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ৪ আগস্ট সেটি বিএসটিআইকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে যশোর জেলায় নতুন ভূমি নির্বাচনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তিনটি স্থান প্রাথমিক নির্বাচন করেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রাথমিকভাবে কয়েকটি জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। পটুয়াখালীতে ৪২ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের জন্য চূড়ান্ত প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে। বগুড়ায় ৫০ শতাংশ খাসজমি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত দিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে গত ১০ আগস্ট ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কুষ্টিয়ায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য গত ১০ আগস্ট যৌথ তদন্ত এবং গণবিজ্ঞপ্তি কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। নোয়াখালী জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। এ বিষয়ে অনুষ্ঠেয় পিআইসি সভায় অগ্রগতি জানতে চাওয়ার পাশাপাশি চলমান কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।



