জলবায়ু প্রকল্পে অনিয়ম
- আইএমইডির প্রতিবেদন

সংগৃহীত ছবি
বৈদেশিক সহায়তায় পরিচালিত জলবায়ু প্রকল্পে ১৩ ধরনের ত্রুটি ও অসংগতি চিহ্নিত করেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে দেরি, নিয়মিত পিআইসি ও পিএসসি সভা না হওয়া, ডিজাইন ও লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্কে ঘাটতি, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সঠিকভাবে না হওয়া, অর্থছাড়ে সময়ক্ষেপণ, অনিশ্চিত এক্সিট প্ল্যান এবং প্রশিক্ষণের মান ও বিষয়বস্তুর সহজলভ্যতার অভাব। এসব প্রশাসনিক ও কাঠামোগত ত্রুটির কারণে পুরোপুরি লাভবান হতে পারছেন না প্রান্তিক উপকারভোগীরা। সম্প্রতি আইএমইডির এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের খসড়ায় উঠে এসেছে এসব তথ্য। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
আইএমইডির সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী আগামীর সময়কে জানালেন, এখন যেসব প্রকল্প মূল্যায়ন হচ্ছে, সেগুলোর সুপারিশ যাতে বাস্তবায়ন হয়; সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে
আইএমইডি সূত্র জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ছোট দ্বীপ এবং নদীর চরের জন্য অভিযোজন উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৭৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা পরে সংশোধন করে ১০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ইউএনডিপির অ্যাডাপ্টেশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ আটটি সংস্থা যৌথভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মেয়াদের এই প্রকল্পের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও গত মার্চ পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪০.৫৭ শতাংশ, তবে বাস্তব অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৮৮.০২ শতাংশ।
আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্প শুরুর ছয় মাস পর প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ায় প্রথম অর্থবছরের কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং কোনো অর্থও ছাড় করা হয়নি। পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি তিন মাস অন্তর পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) ও পিএসসি (প্রকল্প স্টিয়ারিং কমিটি) সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয়নি।
এ ছাড়া প্রকল্পটির ডিপিপি ও আরডিপিপিতে যে ডিজাইন ও লজিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে, তার কিছু কিছু অংশে অস্পষ্টতা রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ী সমন্বিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও ইনস্টিটিউশনাল ম্যাট্রিক্সের ঘাটতি রয়েছে। এমনকি এক্সিট প্ল্যান বা প্রকল্প শেষের পরিকল্পনায় অনেক ক্ষেত্রে ‘পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’ উল্লেখ থাকায় এর ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ও ধারাবাহিকতা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সময়মতো সম্পন্ন হয়নি ক্রয় প্রক্রিয়াও।
মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নেও রয়েছে ব্যাপক দুর্বলতা। উপকারভোগীদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য ছিল না। জীবিকায়ন সহায়তার অংশ হিসেবে মুরগির বাচ্চা পালন, হাঁস পালন কার্যক্রমে উপকারভোগীরা এক দিনের প্রশিক্ষণ ভাতা, ৫০টি বাচ্চা, খাদ্য, ঘর, টিকাদান ও প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন, তবে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখনো পূর্ণ অর্থনৈতিক সুফল অর্জিত হয়নি। ঘরের নকশা স্থানীয় ‘হরপা’ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ছাগল পালনের ক্ষেত্রে রোগব্যাধি, টিকাদান ও চিকিৎসাসেবার অভাবে অনেক ছাগল মারা গেছে। গরু পালন, মৎস্য চাষ এবং ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলেও সময় স্বল্পতার কারণে উপকারভোগীরা এখনো সরাসরি লাভবান হতে পারেননি। জলবায়ু সহনশীল সবজি চাষে কৃষকরা আংশিক সুফল পেলেও নদীর পাড় রক্ষায় নির্মিত বাঁধের গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।




