আইএমএফের তথ্য
জিডিপির আকারে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৬তম অর্থনীতি

মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারের দিক থেকে বিশ্বের ৩৬তম বৃহৎ অর্থনীতি বাংলাদেশ। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়াতে পারে ৫০৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার ৬৩৬ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের (ডব্লিউইও) পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক বৈশ্বিক চিত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বের অর্থনীতির আকার চলতি বছরের শেষে ১২৮ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৩ সালের তুলনায় যা প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি। তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশই গুটিকয়েক দেশের হাতে পুঞ্জীভূত। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন— এই দুই দেশের সম্মিলিত জিডিপি বিশ্ব অর্থনীতির ৪২ শতাংশের বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি ও জাপান— এই চার দেশের অর্থনীতির আকার বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় অর্ধেক।
অর্থনীতির আকারে বাংলাদেশের ঠিক ওপরে রয়েছে ভিয়েতনাম (৩৫তম), আর ঠিক নিচে ফিলিপাইন (৩৭তম)। ২০২৬ সালে ভিয়েতনামের অর্থনীতির আকার ৫৪২ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার এবং ফিলিপাইনের ৫০১ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এ দুই দেশের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনীতির আকারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি ৪ দশমিক শূন্য ৬ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ভারতের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ। পাকিস্তানের অবস্থান ৪২তম। ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি ৪৫০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার হতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শীর্ষে। ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি ৩২ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান প্রায় এক-চতুর্থাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের অর্থনীতির আকার ২১ দশমিক ৫৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানির তুলনায় চীনের অর্থনীতি চার গুণের বেশি বড়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত ও ফ্রান্সের সম্মিলিত অর্থনীতির চেয়েও বেশি।
তালিকায় জার্মানির অবস্থান তৃতীয়, জাপান চতুর্থ, যুক্তরাজ্য পঞ্চম এবং ভারত ষষ্ঠ। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি ও ব্রাজিল। বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির মধ্যে এ দেশগুলোর সম্মিলিত অবদান বৈশ্বিক উৎপাদনের বড় অংশ জুড়ে। এশিয়ার অন্যান্য বড় অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির আকার ১ দশমিক ৪৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ২ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ নতুন গতি তৈরি করছে। সার্ভার, সফটওয়্যার, ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে।



