এইচএসবিসি বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সংবাদ সম্মেলন

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশে কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে চাকরি হারানো এইচএসবিসি বাংলাদেশের একদল কর্মকর্তা ব্যাংকটির বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘন, প্রতারণা এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। রোববার (০৫ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ খুচরা ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের ফলে ২৫৭ জন কর্মকর্তা চাকরি হারান। তাদের মধ্যে অনেকেই ১৫ থেকে ২৫ বছর ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন।
তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জমা দেওয়া নথিতে তাদের ছাঁটাইকৃত কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, কর্মীদের হাতে সাধারণ চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শ্রম আইনে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য নির্ধারিত সুবিধা ও আইনি সুরক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা বলছেন, একই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এক ধরনের তথ্য এবং কর্মীদের কাছে ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত তুলে ধরা হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে পরিকল্পিত প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সমালোচনা করে তারা জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ থাকলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তারা বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে শ্রম আইনসহ বিভিন্ন আইনের অন্তত নয়টি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছাঁটাইয়ের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা, জ্যেষ্ঠতার নীতি অনুসরণ না করা, পুনর্নিয়োগে অগ্রাধিকার না দেওয়া, প্রভিডেন্ট ফান্ড তহবিল থেকে অর্থ কর্তন, ঋণ সমন্বয়ে শ্রম আইন না মানা, আবাসন ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, চাকরির অব্যাহতির সনদ আটকে রাখা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত উপেক্ষা করা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে এইচএসবিসি কর্মীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দিলেও বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৫ মাসের বেতনের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এটি বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ২০২টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তবে আদালতের রায়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেছেন— পুরো ছাঁটাই প্রক্রিয়া বাতিল করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য চাকরিচ্যুতি সুবিধা ও শ্রমিকদের ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডের পাওনা পরিশোধ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ অন্যান্য পাওনা থেকে কেটে নেওয়া অর্থ জরিমানাসহ ফেরত দেওয়া।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের প্রতি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা।




