গাইবান্ধায় সোলার ভিলেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে আইডিএলসি ও ফ্রেন্ডশিপ এনজিও

সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধা জেলার মোল্লার চরে একটি সোলার ভিলেজ, অর্থাৎ সৌরশক্তি-ভিত্তিক গ্রামাঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফ্রেন্ডশিপ এনজিও’র সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি। টেকসই পরিবেশগত উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলা, এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে আইডিএলসি নিজ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ঢাকার গুলশানে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করপোরেট হেড অফিসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম জামাল উদ্দিন এবং ফ্রেন্ডশিপ’এর ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রুনা খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের গ্রুপ সিএফও মাসুদ করিম মজুমদার এফসিএ; এএমডি ও চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও) আসিফ সাদ বিন শামস; সিএসআর এবং এলঅ্যান্ডডি লিড ফারহানা শারমিন।
ফ্রেন্ডশিপের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মুহাম্মদ শামীম রেজা, সিনিয়র ডিরেক্টর, লিগ্যাল অ্যান্ড সিএফও; চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ; ডিরেক্টর ও হেড অব সাস্টেইনেবল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন; এনামুল হক, অ্যাসিস্টেন্ট ডিরেক্টর, পার্টনারশিপ ডেভেলপমেন্ট; এবং মো. মাহিদুল ইসলাম, সিনিয়র ম্যানেজার, সাস্টেইনেবল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট, ফ্রেন্ডশিপ।
আইডিএলসির ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ মিটিগেশন অ্যান্ড অ্যাডাপটেশন পিলারের আওতায় ২০২৬-২৭ সাল জুড়ে বাস্তবায়িত হবে সৌরগ্রাম প্রকল্পটি। এর আওতায় থাকছে ৩০ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরচালিত মাইক্রোগ্রিড, দুটি সৌর সেচ পাম্প, ৭০টি পরিবারের জন্য প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার, একটি বৈদ্যুতিক ধান ভাঙানোর যন্ত্র, দুটি বৈদ্যুতিক থ্রেশার, স্থানীয় দোকান ও ফার্মেসির জন্য হিমায়ন রেফ্রিজারেশন সুবিধা এবং ১০ জন স্থানীয় প্যারা-সোলার টেকনিশিয়ানের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম।
ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরতা কমানো, কৃষি উৎপাদন খরচ হ্রাস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, এবং একটি টেকসই স্থানীয় জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির এই উদ্যোগ নকশা করা হয়েছে।
মোল্লার চরের অধিকাংশ পরিবার মূলত কৃষিনির্ভর, যারা লিজ নেওয়া জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কয়েকটি পরিবারের কাছে সাধারণ মানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেও তা সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতার বাইরে থাকা এই জনপদের কৃষকদের তাই নির্ভর করতে হয় ডিজেলচালিত সেচের ওপর, যার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মৌসুমভিত্তিক অতিরিক্ত খরচ সহ পরিচালনাগত নানা অসুবিধা।
আইডিএলসি ও ফ্রেন্ডশিপের এই সোলার ভিলেজ উদ্যোগে উপকৃত হবেন অন্তত তিন শতাধিক মানুষ। ১০ একর কৃষিজমিতে সৌরশক্তিচালিত যন্ত্রে সেচ সুবিধা পাবেন কৃষকেরা, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছাবে প্রতিটি বাড়িতে, আর সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপকৃত হবেন যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে। এই প্রকল্প জলবায়ু-সহনশীল কৃষি চর্চার পথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি সৌরশক্তি অবকাঠামোর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় কারিগরি সক্ষমতাও বাড়াবে।
এ প্রসঙ্গে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম জামাল উদ্দিন বললেন, ‘নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও আধুনিক সেচ অবকাঠামোর অভাবে মোল্লার চরের মানুষের কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়ছে, যা তাঁদের কৃষি উৎপাদনশীলতাকে অনেকাংশেই বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে তাঁদের অর্থনৈতিক সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে। ফ্রেন্ডশিপ এনজিও’র সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়িত এই সোলার ভিলেজ প্রকল্পটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আমি আশা করি।’
ফ্রেন্ডশিপের ফাউন্ডার ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রুনা খান বলেছেন, ‘চরাঞ্চলে টিকে থাকার শক্তি তৈরি হয় নানা বাস্তবমুখি সমাধান অবলম্বনের মধ্য দিয়ে, যেগুলো মানুষকে নিজেদের জীবনের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ তৈরির সক্ষমতা যোগায়। সৌরশক্তির সেচ পাম্পসহ ফ্রেন্ডশিপের মাইক্রোগ্রিড এমনই এক বাস্তব ফলাফল তৈরি করছে। কৃষি খরচ তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে আনার পাশাপাশি এটি চর সম্প্রদায়ে নিরাপত্তা এবং ঘরে ঘরে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পৌঁছে দিচ্ছে। এভাবেই জীবিকার মান উন্নত হচ্ছে, আর নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত সমাধানে বাড়ছে সুযোগ, মর্যাদা ও আরও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা।’
সমাজ ও মানুষের প্রতি আইডিএলসির দায়বদ্ধতা এবং প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন কার্যে ফ্রেন্ডশিপের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠতে যাচ্ছে মোল্লার চরের সোলার ভিলেজ। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা, কৃষি উৎপাদনশীলতা, জীবিকা উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কীভাবে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে, এই সহযোগিতা তারই একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




