আমেরিকার তুলা আমদানি বাড়াতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
পোশাক খাতে ব্যবহৃত তুলার জোগান বাড়াতে চালু হয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম; যার মাধ্যমে সরাসরি আমেরিকার কৃষকের কাছ থেকে তুলা কিনতে পারবেন সুতার মিল মালিকরা। এতে খরচ ও সময় কমবে। পাশাপাশি ইউএস তুলা ব্যবহার করে তৈরি করা পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ। ফলে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতেও নতুন সুবিধা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
বিজিএমইএর তথ্যমতে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ কটনভিত্তিক। বিশ্ববাজারে কটনভিত্তিক পোশাকের গড় অংশ ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই বড় বাজারকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা সরবরাহকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিনিং ও পোশাক শিল্পের সরাসরি সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি এবং প্রায় ৯ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলার পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ছিল। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে তুলা রপ্তানির মূল্য ৩৩৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল।
বছরগুলোয় অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি কমেছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ২৫২ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি তুলা কেনার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ‘কটনপোর্ট’ নামে এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি মার্কিন কৃষকদের সঙ্গে বাংলাদেশি ক্রেতাদের যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর ধরে উন্নয়নের পর প্ল্যাটফর্মটির লাইভ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে সংগৃহীত ৮২ টন উচ্চমানের তুলার অফার দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তা আমেরিবাংলা করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসওয়ার রহমান বলেছেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্পিনিং মিলগুলো তুলা কেনার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও দরকষাকষির সুযোগ পাবে।







