রিজার্ভের লক্ষ্য সাড়ে ৫১ বিলিয়ন ডলার

বৈদেশিক খাত নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ঠিক করছে সরকার। একদিকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি ধরা হয়েছে। আর আগামী অর্থবছরে সেটিকে ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর পরিকল্পনা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এই মহাপরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূচক অনুযায়ী চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে পণ্য ও সেবা রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ ধরা হলেও আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তা কমিয়ে ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পেছনে যে ভাবনা কাজ করেছে, তা হলো— গত কয়েক বছরে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাহিদা দুর্বল হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এবং তৈরি পোশাক খাতে তীব্র হচ্ছে প্রতিযোগিতা। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সরকার এমন একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে চেয়েছে, যা অর্জন করা সম্ভব।
অবশ্য একই সময়ে আমদানি ও সেবা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৫ দশমিক ৩ থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ করা হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিবেচনায় এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দুই বছর ধরে ডলার সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ কার্যত আমদানি নিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করেছে।
এর ফলে শিল্প খাতে কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে তৈরি হয় এক ধরনের চাপ। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারেনি। বিনিয়োগও মন্থর হয়েছে।
বাজেটে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ বৈদেশিক খাতের ভারসাম্য রক্ষার প্রধান চালিকাশক্তি হবে প্রবাসী আয়।
গত এক বছরে দেখা গেছে, বিনিময় হার আংশিক বাজারভিত্তিক, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের ফলে বৈধপথে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অর্থ
মন্ত্রণালয় সেই ইতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতা ধরেই আগামী অর্থবছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।




