গভর্নর
ইসলামী ব্যাংকগুলো লুটপাটে বড় দায় চেয়ারম্যানদের

বিআইবিএম আয়োজিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ফাইল ছবি
দেশের শরিয়াহ পরিচালিত ইসলামী ব্যাংকগুলোয় আস্থা বেশি সাধারণ গ্রাহকদের। আমানত রাখার সময় সরল বিশ্বাস কাজ করত আমানতকারীদের। তারা এসব ব্যাংকে খোয়া যাবে না, এমন চিন্তা থেকেই টাকা রেখেছিল। কিন্তু গ্রাহকের আস্থা ধরে না রাখায় ব্যাংকাররা কিছুটা দায়ী। আর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায় আরও বেশি। বিশেষ করে বিগত সময়ে লুটপাট হওয়া ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ চেয়ারম্যানদের মূল দায় নিতে হবে।
গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (আইবিআরপিডি) উদ্যোগে রাজধানীর বিআইবিএম হলরুমে আয়োজিত ‘ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের শরিয়াহ-সংক্রান্ত ভূমিকাবিষয়ক আলোচনা সভা’— শীর্ষক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআইবিএম গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এসব কথা বলেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, ইসলামী ব্যাংক লুটপাট এবং সব বড় অনিয়ম পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানদের চোখের সামনে ঘটেছে। চেয়ারম্যান না চাইলে এসব ঘটনা ঘটনার কোনো সুযোগ ছিল না, এখনো নেই। মূলত চেয়ারমানের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সবকিছু ঘটেছে। অন্তত পক্ষে ৪৫টি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে গভর্নর এমন মন্তব করেন।
গভর্নর লুটপাট হওয়া ব্যাংগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, সরল আস্থায় মানুষ ইসলামী ব্যাংকে আমানত রাখে। সবার দায়িত্ব ছিল সরল আস্থা ধরে রাখা। কিন্তু বোর্ডের পরিচালক এবং চেয়ারম্যানরা দায়িত্ব যেভাবে পালন করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা দায়িত্ব অবহেলার দায় এড়াতে পারেন না। এখন তাদের কারণে পুরো ব্যাংক খাতে আস্থা ধরে রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যোগ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম বলেছেন, শরিয়াহ নীতিমালার যথাযথ অনুসরণ কেবল ইসলামিক ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের শুধু আস্থা বৃদ্ধি করে না বরং এ খাতের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং শরিয়াহ সুপারভিশন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইসলামিক ব্যাংকিং করা সম্ভব।
গভর্নর আরও বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সুশাসনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে ব্যাংকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তার মতে, ব্যাংকের সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে থাকলে ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও কার্যকারিতা আরও উন্নত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ বলেছেন, নতুন কাঠামোয় ব্যাংক খাতের সুষ্ঠু বিকাশে শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স এবং গভর্নেন্স নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকস রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল আলম বলেছেন, নতুন আইন কার্যকর হলে ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রম আরও সুসংহত হবে।
আলোচনা সভায় তিনটি কারিগরি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্যরা বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুশাসন এবং কার্যকর শরিয়াহ তদারকি জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।




