শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অগ্রাধিকার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বন্ধ বা লোকসানি সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিক্রি কিংবা ইজারা দিয়ে প্রাপ্ত অর্থ থেকে আগে পরিশোধ করা হবে শ্রমিক-কর্মচারীদের যাবতীয় বকেয়া পাওনা ও দেনা আর অবশিষ্ট উদ্বৃত্ত অর্থ জমা হবে সরকারি কোষাগারে। শ্রমিকদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এমন কঠোর বাধ্যবাধকতা রেখেই প্রস্তুত করা হয়েছে— ‘সরকারি শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা এর অব্যবহৃত জমি বা স্থাপনা হস্তান্তর, শেয়ার ও স্বত্ব হস্তান্তর বা কৌশলগত বিক্রয়-সংক্রান্ত নীতিমালা (খসড়া)।’ ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর অধীনে প্রণীত এই নীতিমালার মাধ্যমে অচল সরকারি সম্পদে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টেনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
খসড়া নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো অচল বা লোকসানি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আগে পেশাদার নিরীক্ষক দিয়ে সার্বিক দায়দেনা ও শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, পেনশন ও আনুতোষিক নির্ধারণ করে ‘কর্মী-দায় বিবরণী’ প্রকাশ করতে হবে। সম্পদ বা শেয়ার বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিশেষ ব্যাংক হিসাবে সংগৃহীত হবে। সেই টাকা থেকে আইন অনুযায়ী প্রথম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য বকেয়া ও প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জীভূত দায় মেটানো হবে। যাবতীয় দেনা পরিশোধের পর যদি কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে, শুধু তখনই তা প্রজাতন্ত্রের সংযুক্ত তহবিলে (সরকারি কোষাগারে) জমা করা হবে।
এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো, বছরের পর বছর ধরে অকার্যকর ও লোকসানে চলা সরকারি শিল্প এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং সেগুলোর অব্যবহৃত বিপুল জমি-স্থাপনাকে নতুন বাণিজ্যিক ব্যবহারের আওতায় নিয়ে আসা। সরকার আশা করছে, এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ঘটবে এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
সম্পদ হস্তান্তরের পুরো কাজ পরিচালনা ও তদারকির জন্য ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ‘বিনিয়োগ লেনদেন সমন্বয় ও তদারকি কমিটি’ (আইটিএসসি) নামে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্ষদ গঠিত হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক ধাপ বা দ্বিধাপ উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী নির্বাচন করা হবে। দরপত্র আহ্বানের আগে কেউ নিজ থেকে অনাহূত বিনিয়োগ প্রস্তাব (Unsolicited Proposal) দিলে তিনি মূল্যায়নে অতিরিক্ত ৭ শতাংশ স্কোর সুবিধা পাবেন, তবে তাকেও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে।
এ ছাড়া চুক্তির পর প্রতি ছয় মাস অন্তর বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং কোনো বিনিয়োগকারী শর্ত ভঙ্গ করলে চুক্তি বাতিল করে ওই সম্পত্তি আবার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া নীতিমালাটির ওপর কোনো মতামত বা সুপারিশ থাকলে তা নিকষ ফন্টে বাংলায় টাইপ করে স্বাক্ষরিত স্ক্যান কপি, সম্পাদনযোগ্য ওয়ার্ড ফাইলসহ ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে [email protected] ঠিকানায় ইমেইল করতে হবে। এক্ষেত্রে ইমেইলের সাবজেক্টে ‘Comments on Strategic_Divestiture Policy’ উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষকে একীভূত করে গত ২৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে যাত্রা শুরু করেছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।



